ওবায়দুল কাদেরকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম কাদের মির্জার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইউএনভি ডেস্ক:

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার ৮ অনুসারীসহ নয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়ে বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন কাদের মির্জা। এসময় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার রাত ৯টায় সহযোগী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক থেকে লাইভে এসে কাদের মির্জা এ আলটিমেটাম দেন।এর আগে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বসুরহাট পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা সবাই ছররা গুলিতে আহত হন। তাদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনার পর সবাইকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বড় ভাই ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, প্রশাসনের ছত্রছায়ায় আমার ছেলেদের গুলি করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সামিম কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউল হক মীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুপ্রভাত চাকমা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনিকে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় সব কিছুর দায়দায়িত্ব আপনাকেই (ওবায়দুল কাদের) বহন করতে হবে।

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র বলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আমাকে বলেন- আমি যেভাবে বলব সেভাবে হবে; তাদের (প্রতিপক্ষ) বলেন- তারা যেভাবে বলবে সেভাবে হবে। আসলে তিনি কী চান? আমি বলেছিলাম চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় যাব, কিন্তু এখন আর যাব না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আপনার (ওবায়দুল কাদের) বিরুদ্ধে কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলব। আমিও এর শেষ দেখে ছাড়ব।

তিনি বলেন, নোয়াখালীর অপরাজনীতির হোতা একরামসহ ভূমিদস্যু, তদবিরবাজ, মাদক সম্রাটদের সাথে আমাকে মেলাতে চান? এদের সঙ্গে কিসের এক্য? আমি মাদকের সাথে যুক্ত ১০ জনকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এদের নিয়ে আপনি রাজনীতি করতে চান? আপনার রাজনীতি আপনি করেন।

গুলিতে আহতরা হচ্ছেন- পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (৪৭), ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহমেদ জিসান (২৩), সামছুল হকের ছেলে মো. সবুজ (৪০), আবদুল লতিফ দুলালের ছেলে রুহুল আমিন সানি (৩০), মোস্তফা মিস্ত্রির ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৮), পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এনামুল হকের ছেলে দেলোয়ার হোসেন সুমন (২৭), চরকাঁকড়ার মোশারেফ হোসেনের ছেলে দিদার (৩৫), মৃত মোস্তফার ছেলে মাঈন উদ্দিন কাঞ্চন (৪২) ও পথচারী নওশাদ (৩৮)।

পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বকুল জানান, ৯ ওয়ার্ডের হাজীপাড়া, আদর্শাড়া ও শান্তিপাড়া থেকে কাদের মির্জার অনুসারীরা একত্রিত হয়ে পৌরসভায় যাওয়ার জন্য জড়ো হচ্ছিল। প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশিদ মঞ্জুর সমর্থকরা বেপরোয়া গুলি করে তাদের আহত করে।

অন্যদিকে সেতুমন্ত্রীর ভাগ্নে মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কোন লোক বাসা থেকে বাইরে বের হয়নি। কাদের মির্জার লোকজন মিছিল করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে শুনেছি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডে কাদের মির্জার অনুসারীদের মিছিল করতে চাইলে প্রতিপক্ষরা গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
শর্টলিংকঃ