টুকরো টুকরো মুক্তিযুদ্ধ – টাইম ম্যাগাজিনে ১৯৭১


রাগিব হাসান:

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রচুর খবর প্রকাশ পেয়েছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে সেই দুর্লভ সব রিপোর্টের অনেকগুলো আজ সহজলভ্য। গুগল নিউজের মাধ্যমে খুঁজে বের করা চলে সেসময়কার সব খবর, আর টাইম ম্যাগাজিনের মতো অনেক পত্রিকার আর্কাইভ ইন্টারনেটে মুফতে পড়া চলে, তাই এই সিরিজে এরকম বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের খবরগুলো তুলে ধরার প্রয়াস নিচ্ছি। 

The World: Pakistan: Toppling Over the Brink এপ্রিল ৫, ১৯৭১

Until last week, Pakistan’s political leaders seemed on the verge of settling their differences. Then, in rapid order, three events carried the nation over the brink of violence. In Chittagong, a mob surrounded West Pakistani troops unloading supply ships. Where the first shots came from is unclear, but when the troops opened fire, 35 Bengalis were killed. Their political leader, Sheik Mujibur Rahman, called a general strike to protest. Then, Yahya Khan outlawed Mujib and his Awami League Party as “enemies of Pakistan” and ordered the armed forces to “do their duty.” 

গত সপ্তাহ পর্যন্ত মনে হচ্ছিলো পাকিস্তানের রাজনীতিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা বোধহয় কেটে যাবে শান্তিপূর্ণভাবেই। কিন্তু তার পর এক নিমেষে পালটে গেলো সবকিছুই। তিনটি ঘটনা পূরো দেশকে যুদ্ধের দ্বারে নিয়ে এসেছে। চট্টগ্রামে পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যখন জাহাজ থেকে রসদ ও অস্ত্র খালাশ করছিলো, বাঙালী জনতা তাদের ঘিরে ফেলে। সৈন্যরা গুলি চালায়, এতে ৩৫ জন বাঙালী মারা যায়। এর প্রতিবাদে বাঙালীদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশে সাধারণ ধর্মঘট ডাকেন। এর অব্যবহিত পরেই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান মুজিব ও তার দল আওয়ামী লীগকে “পাকিস্তানের শত্রু” বলে ঘোষণা দেন। ইয়াহিয়া খান সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন তাদের “দায়িত্ব পালন” করতে।

In Dacca, army tanks and truckloads of troops with fixed bayonets came clattering out of their suburban base, shouting “Victory to Allah,” and “Victory to Pakistan.” TIME Correspondent Dan Coggin, who, along with other newsmen, was subsequently expelled from Pakistan, reported: “Before long, howitzer, tank artillery and rocket blasts rocked half a dozen scattered sections of Dacca. Tracers arced over the darkened city. The staccato chatter of automatic weapons was punctuated with grenade explosions, and tall columns of black smoke towered over the city. In the night came the occasional cry of ‘Joi Bangla [Victory to Bengal],’ followed by a burst of machine-gun fire.”

ঢাকার সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর ট্যাংক আর ট্রাক ট্রাক সশস্ত্র সেনা বেয়নেট উদ্যত রাইফেল হাতে বেরিয়ে আসে। “আল্লাহু আকবর” আর “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” স্লোগান দিয়ে এসব পাকিস্তানী সেনা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালিদের ওপর। টাইম পত্রিকার সাংবাদিক ড্যান কোগিন এসময় ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, “অল্প পরেই ঢাকার প্রায় ৬/৭টি জায়গায় হাউইটজার কামান, ট্যাংক, আর রকেটের গোলা নিক্ষেপ শুরু হয়। থেকে থেকে গ্রেনেড বিস্ফোরণ আর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের শব্দ শোনা যেতে থাকে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়, ধোয়ার কুণ্ডলী ছেয়ে ফেলে পুরো শহরকে। রাতের বেলায় অনেক জায়গাতেই বাঙালীদের স্বাধীনতার স্লোগান জয় বাংলা শোনা যাচ্ছিলো, কিন্তু পরক্ষণেই সেনাদের মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ার স্তব্ধ করে দিচ্ছিলো সেই স্লোগানকে”। এর পর পাকিস্তান সরকার ড্যান কোগিন সহ অন্যান্য পশ্চিমা সাংবাদিককে পাকিস্তান থেকে বহিস্কার করে।

The army ordered a strict 24-hour curfew in Dacca, with violators shot on sight. But soon the Free Bengal Revolutionary Radio Center, probably somewhere in Chittagong, crackled into life. Over the clandestine station. Mujib proclaimed the creation of the “sovereign independent Bengali nation,” and called on its people to “resist the enemy forces at all costs in every corner of Bangla Desh.” The defiant words, however, lacked military substance. At 1:30 a.m. the following day, soldiers seized the sheik in his home.

সেনাবাহিনী ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার কার্ফিউ ঘোষণা করে। দেখামাত্র সবাইকে গুলি করে হত্যা করার আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু (২৫ মার্চের) সেই রাতেই চালু হয়ে যায় স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র। গোপন সেই বেতার কেন্দ্র থেকে মুজিবের বক্তৃতা প্রচারিত হয়, যাতে মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। কিন্তু মুজিবের এই কণ্ঠকে সেনাবাহিনীর আক্রমণ স্তব্ধ করে দেয়। রাত দেড়টার দিকে সেনাবাহিনী মুজিবকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। 

The World: Pakistan: Round 1 To the West , ১২ এপ্রিল, ১৯৭১

THERE is no doubt,” said a foreign diplomat in East Pakistan last week, “that the word massacre applies to the situation.” Said another Western official: “It’s a veritable bloodbath. The troops have been utterly merciless.”

“পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই অভিযান যে গণহত্যায় রূপ নিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহই নেই”, বললেন এক বিদেশী কূটনীতিক। আরেকজন পশ্চিমা কুটনীতিক মন্তব্য করলেন, “এ এক অকল্পনীয় রক্তাক্ত হত্যাযজ্ঞ। (পাকিস্তানী) সেনাবাহিনীর মায়াদয়া কিছুই নেই।”

As Round 1 of Pakistan’s bitter civil war ended last week, the winner—predictably—was the tough West Pakistan army, which has a powerful force of 80,000 Punjabi and Pathan soldiers on duty in rebellious East Pakistan. Reports coming out of the East (via diplomats, frightened refugees and clandestine broadcasts) varied wildly. Estimates of the total dead ran as high as 300,000. A figure of 10,000 to 15,000 is accepted by several Western governments, but no one can be sure of anything except that untold thousands perished.

পাকিস্তানের এই তিক্ত সংঘাতের প্রথম দফা শেষ হয়েছে গত সপ্তাহে। অবধারিত ভাবেই এই দফায় জিতেছে সুসজ্জ্বিত পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। ৮০ হাজারেরও বেশি পাঠান ও পাঞ্জাবী খানসেনা নিয়ে গঠিত এই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে কুটনীতিক ও উদ্বাস্তুদের মাধ্যমে খবর আসছে, চোরাগোপ্তা বেতার সম্প্রচারের মাধ্যমেও হত্যাকাণ্ডের কথা প্রকাশ হচ্ছে আস্তে আস্তে। মোট মৃতের সংখ্যা ৩ লাখও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনেক রিপোর্টে খবর আসছে। পশ্চিমা বিশ্বের অনেক সরকার ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন, কিন্তু আর কতো অজস্র হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার খবর এখনো বাইরে পৌছায়নি।

Mass Graves. Opposed only by bands of Bengali peasants armed with stones and bamboo sticks, tanks rolled through Dacca, the East’s capital, blowing houses to bits. At the university, soldiers slaughtered students inside the British Council building. “It was like Genghis Khan,” said a shocked Western official who witnessed the scene. Near Dacca’s marketplace, Urdu-speaking government soldiers ordered Bengali-speaking townspeople to surrender, then gunned them down when they failed to comply. Bodies lay in mass graves at the university, in the Old City, and near the municipal dump.

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ট্যাংকগুলো সামনে যা পড়েছে, তার সবকিছুকে ধ্বংস করে, গোলার আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে চুরমার করে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা দখলে রেখেছে। এক অসম সমরে এই ট্যাঙ্কগুলো গুড়িয়ে দিয়েছে নিরস্ত্র বাঙালিদের সব প্রতিরোধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্রিটিশ কাউন্সিল ভবনের আশে পাশে সৈন্যরা নিষ্ঠুরভাবে ছাত্রদের হত্যা করেছে।

এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চেঙ্গিস খানকেও হার মানাবে“, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসে বললেন এক পশ্চিমা কুটনীতিবিদ। ঢাকা বাজার এলাকায় উর্দুভাষী সৈন্যরা বাঙালিদের আত্মসমর্পন করতে আদেশ দেয়, তার পর গুলি করে তাদের হত্যা করে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পুরানো ঢাকা, আর পার্শ্ববর্তী ময়লার ডিপোতে অনেকগুলো গণকবরে দেখা গেছে অজস্র লাশ।

The army’s quick victory, however, did not mean that the 58 million West Pakistanis could go on dominating the 78 million Bengalis of East Pakistan indefinitely. The second round may well be a different story. It could be fought out in paddies and jungles and along river banks for months or even years.

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই আপাত বিজয়ের অর্থ অবশ্য এই নয় যে, ৫৮ মিলিয়ন পশ্চিম পাকিস্তানী চিরতরে ৭৮ মিলিয়ন পূর্ব পাকিস্তানীকে দমন করে রাখতে পারবে। দ্বিতীয় দফায় পুরো ব্যাপারটা উলটে যেতে পারে। সেই দফার যুদ্ধ হতে পারে মাঠে ঘাটে প্রান্তরে , ধান ক্ষেতে, মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে।

PAKISTAN: The Push Toward the Borders, ২৬ এপ্রিল, ১৯৭১

Radio Pakistan announced last week that Pakistan International Airlines has resumed its internal flights between the East Pakistan capital of Dacca and the town of Jessore, formerly a stronghold of rebel resistance. The broadcast failed to note that the PIA prop jets were carrying only soldiers, and that they were escorted into Jessore airport by air force Sabre jets.

পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকা আর পশ্চিমাঞ্চলের শহর যশোরের মধ্যে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হবার খবর রেডিও পাকিস্তান গত সপ্তাহে দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে যশোর ছিলো বাঙালি বিদ্রোহীদের একটা শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু রেডিও পাকিস্তান এটা বেমালুম চেপে গেছে যে পিআইএ-এর এই জেট প্লেনগুলো কেবল পাকিস্তানী সৈন্যদের বহনের কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। যশোর বিমানবন্দর পর্যন্ত পাকিস্তান বিমানবাহিনীর স্যাবর জেট প্লেন এসব ফ্লাইটকে পাহারা দিয়ে পৌছে দিচ্ছে।

It was true, however, that the army had taken the offensive in Pakistan’s savage civil war. In the early days of fighting, the troops had prudently preferred to remain in their garrison areas, for the most part, until additional men and supplies arrived. Last week they began to push toward the Indian border, hoping to secure the hardtop roads by the time the monsoon rains begin in late May. If they succeed, they will be able to block any sizable imports of arms and other equipment for the Bangla Desh (Bengal State) resistance fighters.

তবে একথা সত্যি, পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই ভয়াল নির্মম যুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে সেনারা তাদের প্রধান প্রধান ঘাঁটিগুলোতেই আস্তানা গেড়ে ছিলো। আস্তে আস্তে নতুন সৈন্য ও রসদ আসার পরে পাকিস্তানী সেনারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। গত সপ্তাহে ভারতীয় সীমান্তের দিকে শুরু হয়েছে পাকিস্তানী সেনাদের অভিযান। মে মাসে শুরু হবে বর্ষাকাল। তার আগেই পাকিস্তানী সেনারা সীমান্ত এলাকার পাকা রাস্তাগুলো দখলে আনতে চায়। এতে সফল হলে তারা বাঙালি মুক্তিবাহিনীর রসদ ও অস্ত্র সরবরাহে বাগড়া দিতে পারবে।

Despite the heavy cost of the operation (estimated at $1.3 million per day) and widespread international criticism, the government of President Agha Mohammed Yahya Khan seems determined to press for a decisive victory. The U.S. and most other Western countries have thus far maintained a careful neutrality. Washington announced that it has furnished no arms to Pakistan since the fighting began March 25. Communist China, on the other hand, has strongly supported the Pakistan government, while India, Pakistan’s traditional adversary, has quietly sympathized with the rebels.

যুদ্ধের খরচ বেড়ে চলেছে, প্রতিদিন পূর্বপাকিস্তানে এই যুদ্ধ চালাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর খরচ পড়ছে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৩ লাখ ডলার)। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক নিন্দায় কোণঠাসা হয়ে পড়ছে পাকিস্তান। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান যুদ্ধে পুরোদস্তুর ভাবে জিততে চান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা দেশগুলো এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের ব্যাপারে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।ওয়াশিংটন ঘোষণা দিয়েছে, ২৫শে মার্চে যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি। কমিউনিস্ট চীন অবশ্য পাকিস্তান সরকারকে সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছে।পাকিস্তানের চিরশত্রু ভারত নীরবে মুক্তিকামী বিপ্লবীদের সমর্থন করছে।

From East Pakistan came reports that the destruction was continuing. Estimates of the number of dead ranged to 200,000 or more. In the port city of Chittagong, hundreds of bodies were dumped into the river to be carried away by the tide. Some observers reported a virtual pogrom against East Pakistan’s educated leadership, raising the specter of a region reduced to peasant serfdom. Even the modern jute mills, owned by West Pakistani businessmen, were reported destroyed.

পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তাণ্ডবলীলা অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২০০,০০০ (দুই লাখ) ছাড়িয়ে গেছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে শত শত মৃতদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এসব লাশ ভেসে গেছে সাগরে। বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজকে টার্গেট করে পরিকল্পিত গণহত্যা চালানো হচ্ছে, যাতে এই এলাকাটিতে পরবর্তীতে নেতৃত্বের সংকট দেখা দেয়। এমন কি পূর্ব পাকিস্তানের পাটকলগুলোও রেহাই পায়নি। ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে সেখানকার সব আধুনিক শিল্প ব্যবস্থা।

PAKISTAN: Humiliation or War – মে ১০, ১৯৭১

Ancient Hatred. Meanwhile, West Pakistani industry is operating at only one-third of capacity because of the loss of sales to the markets in the more populous Eastern half of the country—and because of a general economic slump. West Pakistan is hurt in other ways, too, by East Pakistan’s economic collapse. In normal times East Pakistan’s jute industry earns nearly half the whole country’s foreign exchange; now it lies idle, and the rest of the East’s meager industry and transportation facilities have sustained almost complete disruption. West Pakistan will need to find funds to help the Eastern half get started again.

জনবহুল পূর্ব পাকিস্তানের বাজার হারাবার পর পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মোট উৎপাদনক্ষমতার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ চালু রাখতে পেরেছে। অন্যভাবেও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে। যুদ্ধের আগে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক মূদ্রার অর্ধেকেরও বেশি আসতো পূর্ব পাকিস্তানের পাট রপ্তানী করে। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাট রপ্তানী বন্ধ, আর পূর্ব পাকিস্তানে নগন্য যে কয়টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিলো, তাদেরও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে

Print Friendly, PDF & Email

শর্টলিংকঃ