‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের কারণেই পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা সুযোগ হারাচ্ছেন: বিজেপি

  • 12
    Shares

বহুদিন থেকেই প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি প্রধান দিলীপ ঘোষ বলছেন, রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের প্রধান ইস্যুই এখন তাই নাগরিকত্ব সংশোধন বিল (সিএবি) উত্থাপন। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মুসলিমদের কারণেই পশ্চিমবঙ্গের ‘প্রকৃত’ মুসলিমরা সুযোগ হারাচ্ছেন। এনআরসি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি প্রধান দিলীপ ঘোষ

মেদিনীপুর থেকে নির্বাচিত লোকসভার বিধায়ক দিলীপ ঘোষ হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘যতোক্ষণ পর্যন্ত আমরা সংশোধিত নাগরিক বিলের মাধ্যমে মুসলিম দেশগুলো থেকে আসা হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবো, ততোক্ষণ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে না। এ ব্যাপারে আমরা তাকে (মমতা) বিস্তারিত বলবো। আমরা এ বিষয়টি পূর্ণভাবে তার কাছে প্রকাশ করবো। বাংলাদেশে নির্যাতিত হিন্দুরা নাগরিকত্ব পাক, সেটা মমতা চান নাকি চান না? উত্তর তাকেই দিতে হবে।’

বিজেপি নেতারা বলছেন, ‘সব মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’ আর পশ্চিমবঙ্গে কোনও এনআরসি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এসব বিতর্কের মধ্যে দিলীপ ঘোষের ওই মন্তব্য সামনে এলো। তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে পার্লামেন্টে খুবই শিগগিরই সিএবি উত্থাপন করা হবে। ওই বিল পাস হবে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ ও তিন তালাকের বিলও সংসদে পাস হয়েছে।’ দিলীপ ঘোষ হুঁশিয়ার করেছেন, ‘যারা সিএবির বিরোধিতা করবে, তারা নিজেদের হিন্দুবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’

একদিকে মুসলিমসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে দলের ভোট চাওয়া ও অন্যদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনীর মাধ্যমে কেবল মুসলিমদের বিতাড়নের প্রচেষ্টার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে দিলীপ বলেন, ‘মুসলিমরা এক ধরনের কাজে পারদর্শী, হিন্দুরা আরেক রকম। আমরা মুসলিমদের কাছে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছি যে, পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা যে কাজে যুক্ত ও দক্ষ; বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী মুসলিমরাও ঠিক একই কাজ নিচ্ছে। তাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কারণে এখানকার প্রকৃত মুসলিমরা সুযোগ হারাচ্ছে।’

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া দিলীপ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের দুর্দশার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দল। বর্তমানে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তৃণমূলের ছড়িয়ে দেওয়া রাজনৈতিক সন্ত্রাস মোকাবিলা করা। তিনি বলেন, ‘আমরা বিধানসভা নির্বাচনে তিনটি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি; গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দুর্নীতি ও সহিংসতামুক্ত শাসন নিশ্চিতকরণ এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক ঐতিহ্য পুনর্জীবিতকরণ।’


  • 12
    Shares
শর্টলিংকঃ