বাতিলের ১৩ মাসের মাথায় জালিয়াত চক্রকে নতুন লাইসেন্স প্রদান !


রাজেকুল ইসলাম, রাণীনগর (নওগাঁ) :

এসএসসি পাশ না করেও জাল শিক্ষা সনদ(সার্টিফিকেট) দিয়ে ৬ দলিল লেখক লাইসেন্স নেওয়ার প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর পর ধরা পড়লে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ১৩ মাসের মাথায় ওই বির্তকিত ব্যক্তিদের আবারো লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তোলপাড় শুরু হওয়া হওয়া ঘটনাটি নওগাঁর রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের।

নতুন করে দেওয়া ওই লাইসেন্সগুলো বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মহা-নিবন্ধন পরির্দশ (আইজিআর) ঢাকার নিকট গত বৃহস্প্রতিবার (৫ নভেম্বর) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, এসএসসি পাশ না হওয়ার পরেও শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদপত্র দাখিল করে মিরাজুল ইসলাম ২০০৮সালে, এরশাদ আলী ও ইলিয়াস কাঞ্চন ২০০৯সালে, সাদেকুল ইসলাম সেলিম ২০১০সালে, আব্দুল মতিন ২০১১সালে ও রুহুল আমিন দলিল লেখার লাইসেন্স নিয়ে রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখার কাজ অব্যাহত রাখেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র জাল ও ভ’য়া বলে প্রকাশ পেলেও জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।

বিষয়টি জটিল আকার ধারন করলে প্রয়াত সাংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম ২০১৮সালের ৬ সেপ্টেম্বর মহা-পরির্দশক নিবন্ধন অধিদপ্তরকে একটি আধা সরকারি পত্র দিয়ে বলেন হয়, উল্লেখিত ব্যক্তিরা শিক্ষাগত যোগ্যতার ভ’য়া ও জাল সনদপত্র দিয়ে লাইসেন্স করে ৮থেকে ১০বছর ধরে দলিল লেখার কাজ করে আসছে। যাহা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দলিল লেখকসহ স্থানীয় সাধারণ জনগনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তবুও স্বার্থানেশী মহল পুনরায় তাদেরকে লাইসেন্স দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যাহা সরকারের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন, আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য, ক্ষতিকর ও বিব্রতকর এবং এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওযার আশঙ্খা দেখা দেয়। ফলে,অবিলম্বে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়।

পরবর্তীতে নিবন্ধন অধিদপ্তর, ঢাকা ২০১৮সালের ১৫অক্টোবর স্মারক নং নিঅ/রেজিঃ শাখা-৫ (রাঃবিঃ)/১৩৮৮৫,তাং-১৫/১০/২০১৮ নির্দেশনা মোতাবেক ২০১৮সালের ২৪ অক্টোবর নওগাঁ জেলা রেজিস্ট্রার সৈয়দ মজিবর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিদের দলিল লেখার সনদপত্র বাতিলের আদেশ জারী করলেও অদৃশ্য কারণে কোন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শিথিলতা দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে,জেলা রেজিস্ট্রার সৈয়দ মজিবর রহমান অবসরে গেলে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারী নতুন জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত পত্রে ওই ৫ বির্তকিত ও অসদচার ব্যক্তিদের পুন:রায় নতুন করে দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করে কিন্তু পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘাপটি মেরে থাকে। সাংসদ ইসরাফিল আলম গত জুলাই মাসে মারা গেলে নড়েচড়ে বসে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই ৫ ব্যক্তি নতুন করে দলিল লেখার জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

রাণীনগর সাব-রেজিস্ট্রার মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, কি কারণে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল তা জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে।