বিদেশ পাঠাতে চাঁপাইয়ে ১২কোটি আমে ফ্রুট ব্যাগিং

  • 30
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ :
টানা কয়েক বছর লোকসানের পর কেমিক্যাল নামক শব্দটির বদনাম ঘোচাতে নানান রকম উদ্যোগ নিচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষীরা। ভাল দাম পেতে ও শতভাগ নিরাপদ আম উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে ফ্রুট ব্যাগের।

উদ্যোগটি গেল কয়েক বছর আগে নেয়া হলেও এবার অধিকাংশই আম চাষীরা তা বাস্তবায়ন করছেন। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম শতভাগ নিরাপদ হবে বলে জানিয়েছেন চাষীসহ আম সংশ্লিষ্টরা।

শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিডেটের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ইসমাঈল খান শামিম জানান,সঠিক মান পরিক্ষা ছাড়াই কয়েক বছর ধরে কেমিক্যালের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাজার হাজার মন আম রাস্তায় ধ্বংশ করে দেয়া হয়েছে। ফলে আম উৎপাদন করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল চাষীরা।

তিনি আরও বলেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোন আমেই কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়না। শুধু মাত্র ছোট আমে পোকা মাকড় দমে কৃষি বিভাগেরর পরামর্শ অনুযায়ী সার বিষ দিয়ে পরিচর্যা করা হয়। তার পরেও কোন কারন ছাড়াই গেল কয়েক বছর জেলার আম দেশের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংশ করা হয়েছে।

তাঁর দাবি-বর্তমান সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি বাগানের উৎপাদিত আম বিদেশে রফতানি যোগ্য ও শতভাগ নিরাপদ।

একই কথা জানান,চাঁপাই ম্যাংগো’র ব্যবস্থাপক শহিদুল হক হায়দারী। তিনি বলেন,দেশে ও বিদেশে আম রফতানি করতে ফ্রুট ব্যাগিংয়ের মাধ্যমে আম পুষ্ট করে তোলা হচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয় কৃষি ভিাগের নজরদারি বাড়ার কারনে আম চাষীরা কিছুটা আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও চলতি মৌসুমে নায্য মূল্য পেলে নিরাপদ আম উৎপাদনে আগ্রহী হবে।


তিনি আম ভাঙার পর গাড়ীতে তোলার আগে তল্লাসী করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কে আহবান জানান। এবিষয়ে জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম আমিনুজ্জামান বলেন,জেলার সিংহ ভাগ আম উৎপাদন হয় শিবগঞ্জ উপজেলায়। আমের মুকুল থেকে শুরু করে আম বাজারজাত হওয়া পর্যন্ত কৃষি বিভাগের নজরদারি অব্যহত রয়েছে।

নিরাপদ আম উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পরামর্ষ অনুযায়ী চাষীরা ফ্রুট ব্যাগিং ব্যবহার করে নিরাপদ আম উৎপাদন করছে। তাঁর দাবি-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ কোটি আমে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্যমতে,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রায় ৩২ হাজার হেক্টোর জমিতে আম বাগান রয়েছে। তাতে ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে জেলার আম বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।


  • 30
    Shares
শর্টলিংকঃ