ভাঙ্গুড়ায় থামছে না পুকুর খনন


মানিক হোসেন, ভাঙ্গুড়া(পাবনা):

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পুকুর খনন বন্ধে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় দিন দিন বেড়েই চলছে আবাদি কৃষি জমিতে পুকুর খনন। যেমন একদিকে চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল জরিমানা। অপরদিকে থামছে না কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খনন। ফলে পুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। এতে জমি কমে যাওয়ায় শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকিতে পড়েছে।

জানা গেছে, এই উপজেলায় পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নে নদী-নালা খাল-বিল ছাড়াও প্রায় ২৪ হাজার ৮১৬ হেক্টর ফসলি এবং আবাদি জমি ১০ হাজার ৭৮০ হেক্টর রয়েছে। বহিরাগত এক শ্রেণীর পুকুর ব্যবসায়ী ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় স্থানীয় নেতাদের যোগসাজশে কৃষকদের আবাদি কৃষি জমিতে ফসল চাষের বদলে স্কেভেটর (ভ্যেকু) মেশিন দিয়ে গভীর গর্ত করে জমির চার দিকে বাঁধ তৈরি করে পুকুর খনন শুরু করেছে। আবার সেই খননের মাটি বেশি দামে উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাঁটাতে বিক্রি করছে তারা। কৃষকরা না বুঝে একদিকে হারাচ্ছে তাদের পৈত্রিক ফসলি জমি। অপরদিকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে তথাকথিত পুকুর খননকারী ব্যবসায়ীদের।

অন্যদিকে জমির মালিকরাও ধান চাষ বাদ দিয়ে পুকুর খনন করে মাছ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে এই এলাকার কৃষি জমি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পুকুর খননের কাঁদা-মাটি, কাঁচা-পাকা সড়কের ওপর দিয়ে বহন করার ফলে সড়কগুলো কাঁদামাটিতে পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে চলাচলে মানুষ দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছে। এছাড়াও পুকুর খননকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

উপজেলা কৃষি অফিসার এনামুল হক বলেন, আবাদি কৃষি জমিতে এস্কেভেটার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে এখানকার মৌজার বেশকিছু জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধান না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, ফসলি জমিতে পুকুর খনন করার দায়ে বেশকিছু স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পুকুর মালিকের জরিমানা আদায় করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফসলি জমিতে পুকুর খনন না করতে জন সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে গণবিজ্ঞপ্তি জারি ও এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়তে পারেন বানেশ্বরে ডালমিল মালিককে পিটিয়ে জখম