ভালোবাসা দিবসের অন্তর্নিহিত মর্মবস্তু সন্ধানে

  • 241
    Shares

ভালোবাসা

ভালোবাসা নিয়ে আমাদের এক অন্য লেভেল এর ফ্যাসিনেশন কাজ করে।বাচ্চা থেকে বুড়ো সমাজের নিম্ন থেকে চূড়ো সর্বত্র ভালোবাসার জয়গান।ভালোবাসা জিনিসটাই অবশ্য এমন।ভালোবাসা মানুষকে পরিপূর্ন করে,বাঁচতে শেখায়,জীবনের লড়াইয়ে সাহস যোগায়।ব্যাক্তি জীবনে অবশ্যই ভালোবাসার প্রয়োজন আছে তবে সে ভালোবাসার স্বরূপ কেমন হবে সেটা নিরূপণ করা দরকার।

এইতো আর দুই একদিন পরই আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারী,বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।ভালোবাসা দিবসে আমরা আমাদের সমাজে যে ভালোবাসার চিত্র দেখছি তাতে কেবলমাত্র মানব মানবীর ভালোবাসার চিত্রায়ণ ঘটতে দেখছি।এতে বিন্দুমাত্র অপরাধ নেই,তবে এর মাঝে ভালোবাসার স্বাস্বত ব্যাপারটা ঠিক বোধয় ফুটে উঠছেনা।ভালোবাসার যে স্বাস্বত এবং সার্ব্জনীন চরিত্র সেটিই আমার কাছে বেশি অর্থবহ বলে মনে হয়।ভালোবাসা দিবসের ভালোবাসায় কেবলমাত্র দুজন মানব মানবীর কামনার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠছে আমাদের সমাজে।যদিও ভালোবাসার জন্য বছরে একটি নির্দিষ্ট দিন অযৌক্তিক কারণ মানুষ প্রতিটি মূহুর্তে ভালোবাসে দিন ক্ষণ দিয়ে ভালোবাসা করা যায়না তারপরও ভালোবাসা দিবসের দিবস হয়ে উঠার ইতিহাসটা আমাদের অনেকেরই অজানা।

ভালবাসা দিবস হিসেবে আমরা ১৪ ফেব্রুয়ারীকে চিনলেও সারা বিশ্বে দিবসটি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে নামেই পরিচিত।যদিও ভ্যালেন্টাইন ডের ইতিহাসের প্রায় আট দশ রকম বর্ণনা শোনা যায় তারমধ্যে খ্রীষ্টান পাদ্রী সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের রোমান সম্রাট স্বৈরশাসক ক্লডিয়াসের বিরুদ্ধচারণ এবং ফাঁসির ঘটনা সর্ব্জন স্বিকৃত।

ভ্যালেন্টাইন ডে হওয়া উচিৎ ছিল শোকের দিন,আত্মাহুতির জন্য সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন এর প্রতি সামান্য শ্রদ্ধা নিবেদন কিন্তু তার প্রাপ্য অথচ আমরা এটিকে কতোইনা উৎসবের দিবস বানিয়েছি।আমরা শুধু জানি ভালোবাসা দিবসে প্রেমিক প্রেমিকা কে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে,আড্ডা দিতে হবে,উপহার দিতে হবে,ভালোমন্দ খেতে হবে,গোলাপ ফুল দিয়ে প্রেম নিবেদন করতে হবে,প্রেমিক প্রেমিকাকে আদর করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি শিখিয়ে দেওয়া কিছু কর্মকান্ড।এভাবেই প্রতি বছর আমাদের ভালোবাসা দিবস শেষ হয় এবং আমরা নিজেদের উচ্চ মানের প্রেমিক প্রেমিকা ভেবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি।কিন্তু আমরা কি সত্যিকারের প্রেমিক প্রেমিকা হয়ে উঠতে পেরেছি ???।

সার্বিক ভাবে ভালোবাসার শ্রেণী বিন্যাস করা হলে মূলত দুটি ধারা পাওয়া যায়,একটি কামনাপূর্ণ ভালোবাসা অন্যটি নিস্কাম ভালোবাসা।দুজন বিপরীত লিঙ্গের অথবা ক্ষেত্র বিশেষে সম লিঙ্গের মানব মানবীর ভালোবাসায় কামনা অর্থাৎ যৌনতা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।যৌনতা এই ধরণের ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষিত চাহিদা এবং এটি সম্পূর্ন মানবিক চরিত্র।নিস্কাম ভালোবাসা মানব চরিত্রেরই আর একটি প্রধান দিক যাতে যৌনতার ছিটে ফোটাও নেই আছে শুধু মানবিক মূল্যবোধ এবং মানুষের প্রতি স্বাস্বত সার্ব্জনিন ভালোবাসার রূপ।এই ধরণের ভালবাসাকে প্লেটোনিক লাভ কিংবা ফ্রেন্ডলি লাভ ও বলা হয়ে থাকে।অনেকে বলেন নিস্কাম ভালোবাসা বলে কিছু নেই,ফ্রয়েড সবকিছুকে ব্যাক্ষা করতে চেয়েছেন যৌনতা দিয়ে তবুও নিস্কাম ভালোবাসা বলে কিছু একটা আছে।হয়তোবা এর অন্য কোন নাম হওয়া উচিৎ যা ভালোবাসা দিয়ে বোধয় সঠিক ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়না।

ন্যায়বোধ,কর্তব্য পরায়ণতা আর ভালোবাসার এ এক অনবদ্য সংমিশ্রণ।সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসায় ঠিক এই রূপটিই প্রকাশ পায়।রোমান স্বৈরশাসক সম্রাট ক্লডিয়াস ছিলেন একজন যুদ্ধবাজ রাজা।নতুন রাজ্য দখলের জন্য এবং নিজের রাজ্য শাসন মজবুত রাখতে শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী দরকার হয়ে পড়ে।কিন্তু সেসময়ে জনগণ সৈন্যবাহিনীতে যোগ দিতে ছিল নারাজ।তার একসময় মনে হয় বিবাহিতদের চেয়ে অবিবাহিতরা সৈন্য হিসেবে বেশী যুদ্ধ পারদর্শী হবে এবং সৈন্যবাহিনীতে যোগ দেবে।তাই তিনি আইন জারি করেন রাজ্যের সকল যুবকদের বিবাহ বন্ধ।এতে রাজ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে তরুণ তরুণীরা প্রতিবাদ করে এবং এর বিরুদ্ধে সোচ্চার আওয়াজ তুলেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন।স্বৈরশাসক ক্লডিয়াসের এই আইন যে দেশ এবং জাতির জন্য হুমকি সেটা অনুধাবন করেছিলেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন তাইতো প্রতিবাদ স্বরূপ রাজার আইন অমান্য করে প্রথমে নিজে ভালোবেসে বিয়ে করেন সেন্ট মারিয়াসকে এবং পরে নিজ গীর্জায় গোপনে যুবক যুবতীদের বিয়ের আয়োজন করতে থাকেন তিনি।

কথিত আছে গীর্জার একটি গোপন ঘরে বর বধূকে বসিয়ে মোমবাতির আলোয় ফিসফিস করে বিয়ের মন্ত্র পড়াতেন তিনি।রাজার বিরুদ্ধে এই সাহসী প্রতিবাদে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন এবং বেশীরভাগ যুবক রাজার সৈন্যবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানাই।ফলশ্রুতিতে গ্রেফতার হন ভ্যালেন্টাইন।কারাগারে দর্শনার্থীর তালিকা লম্বা হতে থাকে যাদের বেশিরভাগই ছিল তরুণ তরুণী।সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন পাদ্রী হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন একজন চিকিৎসক।এমনও শোনা যায় একজন কারারক্ষীর অন্ধ মেয়ে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় দৃষ্টি শক্তি ফিরে পায় এবং তার প্রেমে পড়ে যায়।যাহোক শেষ পযর্ন্ত স্বৈরশাসক ক্লডিয়াস সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের জনপ্রিয়তায় এবং তার বিরুদ্ধচারনের জন্য ভ্যালেন্টাইনের ফাঁসির আদেশ দেয়।অবশেষে ভ্যালেন্টাইনের ফাঁসি কার্যকর হ্য,দিনটি ছিল ২৭০ খৃস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

পাঠক এবার আপনারাই বিবেচনা করুণ সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের ক্ষেত্রে ভালোবাসা কোন দিকটি প্রকাশ পায়,কামনাপূর্ন নাকি নিস্কাম দিকটি।ভ্যালেন্টাইন ছিলেন একজন ধর্ম প্রচারক তার কোন ভাবেই সম্রাট ক্লডিয়াসের সৈন্যবাহিনীতে যোগ দেওয়ার,যোগ দেওয়ানোর জন্য ক্লডিয়াসের পক্ষ থেকে জোর খাটানোর কিংবা বিয়ে করতে কোন রকম বাঁধা ছিলনা।তিনি ইচ্ছা করলেই কোন নারীকে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করতে পারতেন।কিন্তু তিনি তেমনটা করেননি সম্রাট ক্লডিয়াসের জুলুমের প্রতি প্রতিবাদ স্বরুপ তিনি নিজে ভালোবেসে বিয়ে করে ভালোবাসায় আবদ্ধ তরুণ তরুণীর বিয়ের আয়োজন করেছিলেন যেহেতু বিয়ে রাজার আদেশক্রমে নিষিদ্ধ ছিল।এখানে ভালোবেসে বিয়ে করার চেয়ে স্বৈরাচারী রাজার জুলুমের প্রতিবাদ করার বিষয়টিই মূখ্য নয় কি?।

ন্যায়বোধে উদ্দীপ্ত একজন মানুষের সাধারণ মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর নিপীড়িত মানুষের প্রতি কর্তব্যপরায়ণার এক অনবদ্য ইতিহাস এটি।সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের ক্ষেত্রে ভালোবাসার স্বাস্বত এবং সার্ব্জনিন দিকটিই ফুটে উঠে বলে আমি মনে করি।কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ আমরা ভ্যালেন্টাইনের আত্মাহুতিকে উপেক্ষা করে তার প্রতিবাদী স্বরূপকে ছিটকে ফেলে ভালোবাসার এক আত্মকেন্দ্রিক এবং অনেটকা স্বার্থপর একটি রূপ নিয়ে ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করে চলেছি।

এতো গেল ভালোবাসা দিবসের বৈশ্বিক চরিত্র এবার আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ দিবসের প্রাসঙ্গিকতা একটু বিবেচনা করা দরকার বোধকরি।আমরা বাঙ্গালি জাতি নিজেদের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মাথা উঁচিয়ে গর্ব করলেও আসলে আমরা বাঙ্গালি হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জিত বোধ করি।তাইতো সাহেব হওয়ার জন্য সবসময় মরিয়া হয়ে থাকি আমরা।বিদেশী পোষাক,বিদেশী পণ্য,বিদেশী ভাষা,বিদেশী সংস্কৃতি সবকিছুতেই আমাদের অন্য লেভেলের ফ্যাসিনেশন।আর সেটিকে কাজে লাগিয়েই ১৯৯৩ সালের পর থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতি প্রেমী টিভি টকশো লাল গোলাপ খ্যাত শফিক রেহমানের হাত ধরে আমাদের দেশে এসে হাজির হয় ভ্যালেন্টাইন ডে।আর ওমনি আমাদের দেশের তরুণ তরুণীরা নিজের ইতিহাস ঐতিহ্য ভুলে এক ঢোকে গিলে নেয় সেটি,কারণ ঐযে সাহেব সাজতে হবে।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা দোষের কিছু নয় তবে নিজের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে কখনোই তা গ্রহণযোগ্য নয়।বাঙ্গালির ইতিহাসে ১৪ই ফেব্রুয়ারির একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা আছে যা আজ আমরা প্রায় ভুলতে বসেছি।কাকতালীয় ঘটনা হলেও সত্য ঠিক সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের মতোই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধচারনের জন্য এই বাংলার ছাত্র সমাজ জীবন দিয়েছিলেন এবং তারিখটিও ছিল সেই ১৪ই ফেব্রুয়ারি।যা মধ্য ফেব্রুয়ারি ছাত্র আন্দোলন কিংবা স্বৈরাচার প্রতিরোধ হিসেবে পরিচিত।

সালটা ১৯৮৩,স্বৈরশাসক একশাদ অবৈধ ভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের একবছর ও পূর্ন হয়নি তার বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে সমগ্র ছাত্র সমাজ।যদিও প্রথম দিন থেকেই স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতারা তবে মধ্য ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের সূত্রপাত হয় শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খানের নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন নিয়ে।এই শিক্ষানীতিতে এরশাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার স্বরুপ প্রস্তাবিত হয় শিক্ষাকে সাম্প্রদায়িকীকরণ এবং বানিজ্যিকীকরণের নিন্দনীয় প্রস্তাব যা শুরুতেই ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করে বাংলার ছাত্র সমাজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ২১ নভেম্বর প্রায় ১৪টি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন নিয়ে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ,যাতে অনুপস্থিত ছিল ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবির।ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন চলে আসছিল শুরু থেকেই এবং অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হয়েছে ইতিমধ্যেই তবে ১৪ই ফেব্রুয়ারির আন্দোলন এক অন্যরূপ নেয়।১৪ই ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সচিবালয় ঘেরাও এর ডাক দেয়।

সংগ্রাম পরিষদ ডাকে সেদিনদের আন্দোলনে ছাত্র ছাত্রদের সাথে মিলিত হয় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ,স্বৈরশাষকের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার সম্মিলিত প্রতিবাদ এক স্বতস্ফুর্ত গণঅভ্যুথানে রূপ নেয়।এটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম স্বতস্ফুর্ত গণঅভ্যুথান।ছাত্র জনতার মিছিলটি সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।মিছিলটি হাই কোর্টের সামনে পৌছাতেই স্বৈরাচারী এরশাদের প্রশিক্ষিত হিংস্র পুলিশ বাহিনী ছাত্র জনতার উপর হামলিয়ে পড়ে।হঠাতই গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা,মিছিল ঠেকাতে এরশাদের পেটোয়া বাহিনী ছাত্রদের মিছিলে ট্রাক তুলে দেয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গুলি করে এবং বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে জয়নাল কে।ছাত্রদের তাজা রক্তে লাল হয়ে যায় রাজপথ।গুলি,জলকামান,টিয়ার শেল,লাঠিপেটা,ইট পাটকেল…রনক্ষেত্রে পরিণত হয় সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

স্বসস্ত্র পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ছাত্ররা আশ্রয় নেয় শিশু একাডেমীতে।সেখানে শিশুদের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল পুলিশ অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে সেখানেও গুলি চালায়।সেদিনের সেই বর্বরতা থেকে রেহায় পায়নি শিশুরাও,অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আসা শিশু শিল্পী দীপালি পুলিশের গুলিতে নিহত হয় এবং পুলিশ তাঁর লাশ গুম করে দেয়।সারাদিন ব্যাপি চলতে থাকা বর্বরতায় প্রাণ দেয় জয়নাল,জাফর,দীপালি সাহা,কাঞ্চন,মোজাম্মেল সহ প্রায় ১১জন হতাহত কয়েক হাজার আর গ্রেফতারের সংখ্যা সরকারী হিসেবেই ছিল ১৩৩১ জন তাহলে আন্দাজ করুণ আসলে কত হতে পারে।সরকারী হিসাবে অবশ্য বলা হয় মৃতের সংখ্যা ১ জন।

ঘটনা এখানেই শেষ নয় ১৫ই ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা শহীদদের লাশ নিয়ে শহিদ মিনারে জানাজা করতে গেলে পুলিশ সেখানেও হামলা চালায় ছাত্রদের পিটিয়ে লাশ ছিনতাই করে নিয়ে যায়।এসময় তারা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্র শিক্ষক কর্মচারী সাধারণ মানুষদের উপর নির্মম নির্যাতন চালাই।সারাদেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৮ই ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে বাধ্য হয় সামরিক স্বৈরসরকার।তবে সেদিনের সেই আন্দোলন থেমে যায়নি,স্বৈরশাসক এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার মাধ্যদিয়ে চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছিল ছাত্র জনগণ।

১৪ই ফেব্রুয়ারির ঘটনা বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্কিত অধ্যায়।পাঠক এবার ভাবুনতো একজন বাঙ্গালি হিসেবে কোন দিবসটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ন হওয়া উচিৎ খ্রীষ্টান পাদ্রী সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের বিরুদ্ধাচারণ এবং আত্মাহুতি দেওয়ার ঘটনা নাকি আমাদের দেশের ছাত্র জনতার সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের স্বৈরশাসন এর বিরুদ্ধাচারণ এবং দীপালি জয়নাল জাফর কাঞ্চনদের আত্মাহুতি দেবার বীরোচিত ইতিহাস কোনটি ?।ভাবুনতো দীপালি জয়নাল জাফর কাঞ্চনদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে তাঁদের আত্মাহুতিকে অবজ্ঞা করে তথা কথিত আত্মকেন্দ্রিক এবং স্বার্থপর ভালোবাসা দিবস পালন করা কি আমাদের উচিৎ।লাল গোলাপের ভালোবাসার চেয়ে লাল রক্তের ভালোবাসার রোমান্টিকতা অনেক অনেক বেশি নয় কি।

দীপালি জয়নাল জাফর কাঞ্চনদের ভালোবাসায় যে স্বাস্বত সার্ব্জনিন রূপ দেখি তা আমাদের তথাকথিত ভালোবাসা দিবসের ভালোবাসায় কোথায়।যারা মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে ন্যায়বোধ আর কর্তব্যপরায়নতায় উদ্বীপ্ত হয়ে নিজের বুকের তাজা রক্ত নির্দিধায় ঢেলে দিল রাজপথে তাদের সামনে লক্ষ্য হাজার গোলাপ ফুলের ভালোবাসা ফিকে হয়ে যায়।আসুন আমরা দেশকে ভালোবাসতে শিখি,মানুষকে ভালবাসতে শিখি,নিজের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ভালবাসতে শিখি…আসুন আমরা দীপালি জয়নাল জাফর কাঞ্চন হয়ে উঠতে শিখি।১৪ই ফেব্রুয়ারির সকল ভালোবাসা দীপালি জয়নাল জাফর কাঞ্চনদে জন্য আর সকল ঘৃণা স্বৈরাচারের জন্য।১৪ই ফেব্রুয়ারির বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হতে পারে তবে আমার জন্য ১৪ই ফেব্রুয়ারির স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস,একজন বাঙ্গালি হিসেবে এই হোক আমাদের অঙ্গিকার।

লেখকঃ তামিম শিরাজী,
সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী।

আরও পড়তে পারেন  সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিদ্বেষের ডামাডোলে অপরাজনৈতিক পায়তারা


  • 241
    Shares
শর্টলিংকঃ