রাজশাহী বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১৪জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • 86
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সচিবসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন স্থাপনা মেরামতের নামে ১৮ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ এনে বুধবার দুপুরে দুদক রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মো: আল আমিন তিনটি মামলা দায়ের করেন।  

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহীর সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও সাবেক সচিব ড. মোঃ আনারুল হক সহ মোট ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদার যোগসাজশ করে বোর্ডের বিভিন্ন স্থাপনা মেরামত, সংস্কার ও নির্মাণের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে আঠার লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার আটশত একত্রিশ টাকা আত্মসাত করে।

মামলার অপর আসামীগণ হলেন  মোছাঃ সেলিনা পারভীন (৫৩), উপসচিব (ভান্ডার), মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; গোলাম ছরওয়ার (৫১), নিরাপত্তা অফিসার, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড;  ঠিকাদার মোঃ শওকত আলী (৫৪); ঠিকাদার মোঃ ইসরাফিল হোসেন (৩৩); নেসার উদ্দিন আহম্মেদ (৫২), উপসচিব (ভান্ডার), মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; মানিক চন্দ্র সেন (৪৮), উপবিদ্যালয় পরিদর্শক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; মোঃ ফরমান আলী (৪৬), সহকারী প্রোগ্রামার, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; মোঃ জহিরুল হক (৫১), সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; আবুল হাশেম মোঃ রহমতুল্লাহ (৪৫), ইমাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; মোঃ আজহার আলী (৩৬), ডাটা এন্ট্রি/কন্ট্রোল অপারেটর, মাধ্যমকি ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী; ঠিকাদার রওশন রেজভী (আলম) (৪৩), ও  ঠিকাদার রিপন রায় (কুশ) ৩৫।

মামলার বিবরণে জানা যায়,২০১৫-২০১৬ হতে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর বেলদার পাড়ার অফিস কাম বাসভবনের সংস্কার কাজ,  মটর সাইকেল এবং জীপগাড়ি রাখার গ্যারেজ নির্মাণ, পুরাতন ভবনের ১ম ও ২য় তলার রং করণ, পুরাতন ভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলার রং করণ এবং পুরাতন ভবনের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পার্শ্বে ড্রেন নির্মাণ কাজ, উপকরণ শাখা ও কর্মচারী ইউনিয়ন কক্ষের মূল রাস্তা নির্মাণ কাজ, গ্যারেজের সামনে রাস্তা উচুকরণ কাজ, প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তা পাথর সিমেন্ট দ্বারা উচুকরণ কাজ, পুরাতন ভবনের স্কুল কলেজ নিবন্ধন শাখার পূর্ব প্রাচীর সংলগ্ন পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্ত এবং ভবন সলগ্ন পূর্ব দক্ষণ পার্শ্ব ভরাটসহ সাপোর্ট ওয়াল দ্বারা সোলিং রাস্তাকরণ কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে বরং কাজ বাস্তবায়ন দেখিয়ে অবৈধভাবে সর্বমোট আঠার লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার আটশত একত্রিশ টাকা আত্মসাত করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো আল আমিন ইউনিভার্সাল নিউজ-কে জানান, আসামিরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পরস্পরের যোগসাজশে সরকারি অর্থ লোপাট করে দন্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দুদকের তদন্তে অর্থ লোপাটের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুতই আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • 86
    Shares
শর্টলিংকঃ