রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

  • 88
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি)  চারুকলা অনুষদভুক্ত গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ৩টি বিভাগের ১৩ জন ছাত্রী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেছেন। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা পৃথক পৃথক অভিযোগ জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলের সদস্য সচিব ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু  অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চারুকলা অনুষদের ৩টি বিভাগের ১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে অনুষদের ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করেছেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। এমনকি কয়েকদিন আগে এক ছাত্রীকে ফেসবুকে অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়েছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা উল্লেখ করেন, অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর দ্বারা তারা বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও মানসিকভাবে উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন। তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করেন। এমনকি ছাত্রীদের শারীরিক গঠন নিয়ে নিয়েও মন্তব্য করেন। ‘ফ্রি মাইন্ড’র কথা বলে নানা রকম ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশালীন কথাবার্তা বলেন। যার কারণে তারা মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে পড়াশুনা এবং অন্য কোনো কাজেই মনযোগ দিতে পারছেন না তারা।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী জানান, অধ্যাপক আমিরুল ৩-৪ দিন আগে রাতের দিকে তাকে ফেসবুকে একটি অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়েছেন। তিনি ভিডিও কেমন লাগছে বলে তার কাছে প্রশ্ন করেন। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার সহপাঠীদের বিষয়টি জানাবেন বললে অধ্যাপক আমিরুল তার সাথে মজা করছেন মন্তব্য করেন।

ভুক্তভোগী আরেক ছাত্রীর অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রীদের গায়ে হাত দেন। শ্রেণী কক্ষ ও শ্রেণী কক্ষের বাইরে তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেন যা অমযার্দাকর। ছাত্রীদের পরিধেয় পোশাক এমনকি তাদের শারীরিক গঠন নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি এসব করে আসছেন। চারুকলা অনুষদের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিষয়টি জানেন। কিন্তু তিনি কোর্স শিক্ষক হওয়ায় ভয়ে আমরা চুপ থেকেছি।

সহপাঠিদের সম্পর্কে অভিযুক্ত অধ্যাপক ‘বাজে মন্তব্য’ করেছেন বলে অভিযোগপত্র দিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, তিনি আমার বিভাগের সহপাঠি ও সিনিয়র ছাত্রীদের সম্পর্কে আমার কাছে ‘বাজে মন্তব্য’ করেছেন। তিনি শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও আমাকে এসব কথা বলেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আমিরুলের ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। চারুকলা অনুষদ ভবনে গিয়ে খোঁজ নিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানালেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তার ব্যবহৃত আরেকটি ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার বলেন, ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলে আমি শুনেছি। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হয়নি। তাই আপাতত কিছু জানাতে পারছি না।


  • 88
    Shares