শর্ত ভেঙে সিলিন্ডার গ্যাসের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা

  • 31
    Shares

কলিট তালুকদার, পাবনা :
পাবনায়  যেখানে-সেখানে অনিরাপদভাবে  চলছে লাইসেন্সবিহীন এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি। কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এ জেলাই আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান।এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

জানা যায়, সিলিন্ডারের মাধ্যমে আবাসিক খাতে গ্যাস ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে। কিন্তু নিয়ম না মেনেই আবাসিক খাতে ব্যবহারের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার তৈরি এবং বাজারজাত করছে বেশ কিছু কোম্পানী। বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। চাহিদা বেশি থাকার সুবাধে কতিপয় ব্যবসায়ী যতত্রত ভাবে লাইসেন্সবিহীন ভাবে বিক্রি করছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকার অনুমোদিত লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবসা। দোকানের ভিতরে বেশি পরিমাণ মজুদ রেখে বিক্রয়ের জন্য দোকানের সামনে কয়েকটি সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা করছে এমন কয়েক জনের সাথে কথা বললে তারা বলেন,  তারা কখনো বাধার সম্মুখীন হয় নি। তাদের দাবি, আর দোকানে আগুন লাগার মত কিছু নেই। কখনও কোন সমস্যা হয়নি তাই ঝুুঁকিপূর্ণ ব্যবসা জেনেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা করছি।

গ্যাস সিলিন্ডার বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া ৮টি গ্যাসপূর্ণ সিলেন্ডার মজুদ করা বা বিক্রি করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি মজুদ রাখতে হবে। স্থাপনা প্রাঙ্গণে দিয়াশলাই বা আগুন লাগতে পারে এমন কোনো বস্তু বা সরঞ্জাম রাখা যাবে না। মজুদ করা স্থানের কাছাকাছি আলো বা তাপের উৎস থাকা যাবে না। এসব আইনের তোয়াক্কা না করে যতত্রত অরক্ষিতভাবে ভাবে লাইসেন্সবিহীন অবাধে চলছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি।

শুধু বিক্রি নয়, ঝুঁকিপূর্ণভাবে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক। গ্যাস সিলিন্ডার নামানো হয় ট্রাক থেকে ছুঁড়ে ফেলে। এতে যে কোন সময় বিস্ফোরণ ঘটে ঘটতে পারে বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনা।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলায় বিস্ফোরক পরিদপ্তর কর্তৃক এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য লাইসেন্স ছিল ২০২ জনের। এর মধ্যে সময় মত নবায়ন না কারায় ৪৮ টি লাইন্সেস বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ১৫৪ জনের লাইসেন্স রয়েছে। অন্যদিকে ৪৯ জন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।

লাইসেন্স বিহীন এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ করার জন্য সম্প্রতি বেড়া,সাঁথিয়া আমিনপুর থানা গ্যাস ডিলার মালিক সমিতির পক্ষে রাজশাহী-রংপুর বিভাগ এর বিস্ফোরক পরিদর্শক বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী-রংপুর বিভাগ এর বিস্ফোরক পরিদর্শক ড. মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে গত ২ জুলাই তিনি সরেজমিনে পাবনার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। শিগগিরই অবৈধ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


  • 31
    Shares
শর্টলিংকঃ