সাংবাদিকের হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • 10
    Shares

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি :
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একজন সাংবাদিকের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার মহিষালবাড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনের সড়কে এই মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহিষালবাড়ি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুর রহিম। এতে স্কুলটির সহকারী শিক্ষক মনিরুল ইসলামসহ অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।

এই শিক্ষক বলেন, এক সাংবাদিক  আমার কাছে চাঁদা দাবি করছিলেন। তার দাবি, আমি নাকি ঠিকমতো ক্লাস করি না। কিন্তু আমি শুধু চাকরিটা করি আর তিন-চারটা দোকান আছে সেগুলো ভাড়া দিয়ে সংসার চালাই। চাঁদা দেয়ার সামর্থ্য আমার নেই। তাই চাঁদা দেইনি।এজন্য আমাকে ‘জঙ্গি’, ‘জামায়াত’ হিসেবে পুলিশ দিয়ে ধরানোর ভয় দেখায়।পরে আমার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ করে যে, আমি নাকি জঙ্গি এবং পদ্মা সেতুর মাথা কাটার গুজব ছড়াচ্ছি। এ নিয়ে পুলিশ সুপার নিজে আমার বাড়িতে অভিযান চালান। কিন্তু কিছু পাননি। তাই আমাকে ধরেন নি।

কিন্তু গত ৩০ জুলাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে ওই সাংবাদিককে কে বা কারা মারধর করে। এ নিয়ে সে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে। মামলার চার নম্বর আসামি আমাকে করা হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি আদালত থেকে জামিন নিই। কিন্তু এরপরও ওই সাংবাদিক অনলাইনে আমার নামে নিউজ করে যে, আমি নাকি জামায়াত নেতা এবং আমার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা আছে। যার কোনো সত্যতা নেই।

তাই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি আমার স্কুলের সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করেছি। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) স্মারকলিপি দিয়েছি।

এ বিষয়ে  গোদাগাড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাতেনের দায়ের করা মামলায় শিক্ষক মনিরুল ইসলাম চার নম্বর আসামি। মামলাটির তদন্ত চলছে। শিক্ষক দোষী না হলে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। ওসি জানান, শিক্ষক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নাশকতার কোনো মামলা নেই। আর তিনি জামায়াত করেন এমন কোনো তথ্যও তাদের কাছে নেই।

চাঁদা দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আবদুল বাতেন বলেন, আমি আমার জীবনের কোথাও চাঁদাবাজির মাত্র লিংক নাই। অভিযোগ তোলা মানেই যে সত্য এটাও না। অনেকের নামে মামলাও হয়, অভিযোগও হয়, তার মানে কি সে দোষী হয়ে যায়? তিনি বলেন, ৩০ তারিখ শিক্ষক মনিরুলসহ চারজন আমার কাছে এসে বলেন, আমি কেন তাদের পেছনে লেগেছি? তারপর বলেন, আমি কেন এমপিকে গালি দিলাম? এরপরই তারা আমাকে মারধর শুরু করেন। তাই মামলা করেছি।


  • 10
    Shares
শর্টলিংকঃ