স্পোর্টস আমার খুব পছন্দের : জয়া আহসান

  • 8
    Shares

মডেল ও অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান তার গ্ল্যামার আর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন আগেই। সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে দুইবার পুরস্কার পেয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের ছবিতেও অভিনয় করছেন নিয়মিত। এই বয়সে এসেও নিজেকে এতো ফিট রাখার কৌশল নিয়ে নয়া দিগন্তের সাথে কথা বলেছেন তিনি।

বাংলাদেশের বাইরে ভারতের বাংলা ছবিতেও নিয়মিত অভিনয় করছেন আপনি, দুই জায়গায় অভিনয়ে পার্থক্য কী মনে হয় আপনার ?

-আমি যেখানেই যাই, সবাই কিন্তু আমাকে বাংলাদেশের জয়া বলেই জানে। তাই পার্থক্য আমার কাছে কিছু মনে হয় না। অভিনয় করবো চরিত্রকে ভালোবেসে এটাই আমার নীতি।

আপনার লাইফস্টাইল, মেকআপ, হেয়ারস্টাইল সব। নিজেকে সবসময় মেইনটেন করেন কিভাবে?
-ইন্টারন্যাশনাল বা ন্যাশনাল যে ইভেন্টসের কথাই বলেন, সেখানে আমি খুব মিনিমাম মেকআপে বিশ্বাস করি। নিজের ভেতরের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্যটা আমার কাছে খুব ইম্পরট্যান্ট। কিন্তু হ্যাঁ, আমি মনে করি বাইরের সৌন্দর্যটাও একটা সম্পদের মতো। ভালো ফ্ললেস স্কিন অথবা সুন্দর ঝরঝরে চুল একটা অর্নামেন্টের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। যখন ইন্টারন্যাশনাল কোনো জায়গায় যাই তখন আসলে আমাদের জন্য হেয়ার অ্যান্ড মেকআপ সবকিছুর নিয়ম করাই থাকে। ভারতে আমার পারসোনাল হেয়ার স্টাইলিস্ট আছেন, তার নাম হেমা মুনসি।

ফিটনেস মেইনটেনের জন্য আপনি কী কী করেন?
-আমি আসলে জিম পারসন নই। তবে ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বেশি করা হয়। যেমন স্পোর্টস আমার খুব পছন্দের। সুযোগ পেলেই ব্যাডমিন্টন খেলি বা বাইরে থেকে দৌড়ে আসি। এমনিতে জিমে যাওয়ার চেষ্টা করি, ওয়ার্কআউট করি, হালকা এরোবিকস করা হয়। কিন্তু সেটা খুব একটা নিয়ম করে করা হয় না। আমি এ ব্যাপারে খুবই ফ্লেক্সিবল। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে বলতে গেলে আমি সালাদ খুব পছন্দ করি। মাছ আমার খুব পছন্দ, এমনকি রেড মিটও খাই। সকালবেলা উঠে একটা জিনিস আমি প্রতিদিন খাই। সেটা হলো মধু দিয়ে হালকা গরম পানি সাথে লেবু। কাগজি লেবু হলে খুব ভালো, আর সেটা যদি হয় আমার বাসার বাগানের তাহলে আরো ভালো হয়। আমার বাড়িতে ছাদবাগান আছে, সেখান থেকে ফ্রেশ লেবু তুলে সেটা দিই। কখনো সুযোগ হলে গরম পানিতে মিন্ট পাতা বা তুলসী পাতা ফেলে সেটা খেয়ে নিই। আমরা আসলে সারাক্ষণ নানা রকম খারাপ জিনিস নিতেই থাকি আমাদের লাইফস্টাইল থেকে, তার ভেতরে যতটুকু আসলে ঠিক রাখা যায়।

আপনি নিজের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেন?
-সত্যি বলতে, সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিই চুলটাকে। প্রকৃতিপ্রদত্তভাবে আমার চুল ভালো। আমার কাছে মনে হয় চুল খুবই ইম্পরট্যান্ট।

আপনার ব্যস্ত সিডিউলে কিভাবে চুলের যত্ন নেন?
-প্রচুর তেল দিই চুলে। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি অনেকে চুলে তেল দিতে ডিসকমফোর্ট বোধ করে কিন্তু আমি তেল দিয়ে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ থাকি। আমার মনে আছে ছোটবেলায় নানু আমার এ অভ্যাসটা করেছিলেন। আমি অনেক কিছু জমিয়ে রাখতে পছন্দ করি, আমার জমানো সবচেয়ে পছন্দের জিনিসটা হলো আমার নানুর মাথায় তেল দেয়ার বাটি। আমি হালকা গরম করে চুলে তেল দিই। হালকা তাপে চুলোর ওপর তেলের বাটিটা বসাই এবং চুলে দিই। আমি তেল দিয়ে এতটাই স্বচ্ছন্দ যে শুটিংও চুলে তেল দিয়ে করে ফেলি, কেউ টেরও পায় না। আমাকে তেল দিলে অনেক পরিপাটি লাগে, সুন্দর লাগে। আমার মা এটা সবসময় বলেন যে চুলে তেল দিলে আমাকে বেশি ভালো লাগে দেখতে। আমার চুলের যত্নের প্রথম বিষয় হলো তেল দেয়া। একটু সুযোগ পেলেই চুলে তেল দিই। একদিন শ্যাম্পু করলাম অথবা শুটিং থেকে ফিরলাম, মাথাটা ভারী লাগছে, আমি তেল দিয়ে ফেলি। আসলে তেলের সাথে আমার মেন্টাল কোনো একটা কানেকশনও আছে, আমি চুলে তেল দিতে ভীষণ পছন্দ করি। নারকেল তেলের ঘ্রাণটা আমার ভালো লাগে।

কোনো বিদেশী ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন কি?
-বিদেশী কেন ব্যবহার করব? বাংলাদেশী নারকেল তেল ব্যবহার করি। আর অবশ্যই জুঁই নারকেল তেল ব্যবহার করি।

শুটিংয়ে লাইট, হেয়ার স্প্রে, হেভি হিট তো চুলে অনেক এফেক্ট ফেলে। শুধু তেল দিয়েই এই অত্যাচার সামলানো যায়?
আমাদের চুলের ওপর আসলে একটু বেশি অত্যাচার হয়। এ কারণে সুযোগ পেলেই অয়েল মাসাজ নিই, বাড়িতে মাকে বলি বা অন্য কেউ করে দেয়।


  • 8
    Shares
শর্টলিংকঃ