শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ ফিরেছে বাংলাদেশে

  • 3.9K
    Shares

৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই প্রিয় মাতৃভূমিতে পাকিস্তানী কারাগার থেকে ৭২’এর ১০ জানুয়ারী মৃতুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরলেন জাতির পিতা মুজিব হয়ে, পোড়ামাটি আর আত্নপ্রত্যায়ী মানুষের মাঝে ।

যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশ, মানুষের বাড়িঘর নাই, রাস্তাঘাট, পুল কালভার্ট, রেল নাই, বাংকে টাকা নাই, সব হারিয়ে লাল সবুজের প্রিয় বাংলাদেশকে পূনর্গঠনের কাজে হাত দিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।বঙ্গবন্ধুর আহবানে জাতিসংঘের সদস্য, ও.আই.সির সদস্য পদে অন্তর্ভূক্তিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। হাজারো প্রতিকূলতা ও সদ্য পরাজিত হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার পথে এগিয়ে চলেছে বঙ্গবন্ধুর সরকার।

তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করে ’৭৩ এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু পৃথিবীকে জানান দিলেন আমরা লড়াই করে, রক্ত দিয়ে স্বাধীন হতে পারি সেই সাথে গণতান্ত্রিক বিশ্বের সাথে মাথা উঁচু করে আমরা বাঙ্গালী জাতি চলতে পারে।
দেশ পূনর্গঠনের কাজে এগিয়ে চলা বাংলাদেশ হঠাৎ থমকে গেল, বাঙ্গালী জাতি ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট। বিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের বন্ধু, বাঙ্গালী জাতির আরাধনার ধন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে স্বপরিবারে হত্যা করলো খুনি মীর জাফরের বিশ্বস্ত অনুসারী বিশ্বাসঘাতক মোস্তাক-জিয়ার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর কিছু বিপদগামী অফিসার।

বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের নাটক মঞ্চস্থ করে বেতার টেলিভিশনে খুনির দল ঘোষণা দিল স্বৈরাচারী মুজিব কে হত্যা করে তার সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে ইসলাম ধর্ম রক্ষা এবং প্রায় বিক্রি হয়ে যাওয়া ভারতের কাছে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য এই শ্লোগান দিয়ে খুনী মোস্তাক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। খুনি মোস্তাকের সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে পাকিস্তান। জিয়া-মোস্তাক চক্র বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত জাতীয় ৪ নেতাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বিনা কারণে বন্দী করে পৃথিবীর সভ্যতাকে পদদলিত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্মমভাবে হত্যা করলো ’৭৫ এর ৩রা নভেম্বর এর মধ্যে দিয়ে ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠি আবার প্রমাণ করলেন তারা কত নিষ্ঠুর ও বর্বর। খুনিরা নিজেদের আর একধাপ এগিয়ে নিলেন পাকিস্তানী ভাবধারায়।

যে চেতনাকে ধারণ করে এক সাগর রক্তে কেনা বাংলাদেশ পাকিস্তানী ধারায় পরিচালিত হতে শুরু করে, মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী জয় বাংলা নিষিদ্ধ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নাম নির্বাসিত, বাংলাদেশ বেতার রাতারাতি রেডিও বাংলাদেশে রূপান্তরিত, কারাগারে আটক ’৭১ এর ঘাতকদের ছেড়ে দেওয়া হল, দালাল আইন বন্ধ করে রাজাকার আলবদরদের বিচারের রাস্তা বন্ধ করা হলো, যারা গনিমতের মাল ফতোয়া দিয়ে ’৭১ এ আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করে ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করলো, প্রিয় মাতৃভূমিতে ধর্মের দোহায় দিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ী মুসলীম লীগ, জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতি করার অধিকার দিল, ঘাতক গোলাম আজমকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হলো, রাজাকার সর্দার শাহ আজিজ কে রক্তে কেনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, কুখ্যাত রাজকার আব্দুল মান্নান, আব্দুল আলিম আর মসিউর রহমান জাদু মিঞাদের মন্ত্রী করে, কঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে পবিত্র সংবিধান সংশোধনের নামে কলংকিত করে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হলো।

সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিদেশী দূতাবাসে চাকুরী দিয়ে বাংলাদেশের মানমর্যাদা ভুলন্ঠিত করে। এই সমস্ত কলঙ্কিত কর্মকান্ডের মুলহোতা হিসাবে ক্ষমতার মঞ্চে বসে বাস্তবায়ন করেন খলনায়ক স্বঘোষিত জেনারেল জিয়া, তার নির্মমতা এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক অফিসারদের অন্যায়ভাবে আটক করে বিনা বিচারে নির্মমভাবে হত্যা করে ঠিক যেমনটা করেছিল পাকহানাদার বাহিনী স্বাধীনতার ঠিক আগমূহুর্তে ১৪ ডিসেম্বর’৭১। বাঙ্গালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে যেন মিনি পাকিস্তান।

সামরিক জান্তা জিয়ার রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ সাথে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ালো আওয়ামী লীগ কিন্তু ষড়যন্ত্রের রোষানলে পড়ে নেতৃত্ব হোঁচট খায় তাতে করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনোবল না হারিয়ে বাংলার মানুষকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধীকারী শেখ হাসিনাকে আদর্শের কান্ডারী হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব দেন, তার অনুপস্থিতিতে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ আশায় বুক বাঁধে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে আশার আলো প্রজ্জ্বলিত হয়। নেতা কর্মীদের মাঝে নতুন লড়াই শেখ হাসিনাকে প্রবাস জীবন থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে মাতৃভূমিতে, সামরিক জান্তা জিয়া শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলো, অন্য দিকে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ সহ আমজনতা। শেখ হাসিনা প্রায় ৬ বছর পর নির্বাসিত জীবন শেষে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরলেন স্বৈরশাসকের ভিত কাঁপিয়ে ১৭ মে ’৮১।

বঙ্গবন্ধু কন্যা ফিরলেন জননেত্রীর বেশে ঝঞ্জা বিক্ষুব্ধ বৈরী আবহাওয়া মুশলধারে বৃষ্টির মধ্যে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জিয়া সরকারের সব ব্যারিকেট ভেঙ্গে ঢাকা বিমান বন্দরের বাহিরে অপেক্ষমান লক্ষকোটি মানুষের মাঝে, কোটি কন্ঠে উচ্চারিত গণবিদারী শ্লোগান “হাসিনা তোমার ভয় নাই আমরা আছি লক্ষ ভাই, মাগো তোমায় কথা দিলাম মুজিব হত্যার বদলা নিব, মুজিবের বাংলায় খুনীদের ঠাই নাই, মুজিবের বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই।”

শেখ হাসিনা বিমানবন্দরের বাহিরে প্রতিক্ষারত মানুষের মাঝে কান্না বিজড়িত কন্ঠে ঘোষণা দিলেন পিতার মত জীবন দিয়ে হলেও স্বৈরশাসকের হাতে বন্দি গণতন্ত্র উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করবে, এরপর শেখ হাসিনা বনানী কবরস্থানে বেগম মুজিব সহ ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের শহীদদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে লক্ষ কন্ঠে উচ্চারিত আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে শ্লোগানের মধ্যে দিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের রাস্তা ৩ ঘন্টায় পাড়ি দিয়ে মানিক মিঞা এ্যভিনিউয়ে জনতার উত্তাল তরঙ্গে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন, পিতা-মাতা, ভাই আত্মীয় স্বজন সব হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে আপনাদের আপন ভেবে, আপনারাই আমার স্বজন, আপনারা আমার ভরসা, আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে ’৭৫ এর খুনিদের বদলা নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে পিতার মত জীবন দিয়ে হলেও বিজয়ী হবই ইনশাআল্লাহ। শোকে কাতর অথচ পিতার মত আত্নপ্রত্যয়ী ঘোষণায় জাতির মনে আশার আলোর প্রদীপ জ্বলে উঠলো এই ভেবে যে ৭১ এর রক্তে কেনা বাংলাদেশ ’৭৫ এ পাকিস্তানী ভাবধারায় হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশে ফিরেছে।

এরপর দিন যায়, মাস যায়, বছর যায় মানুষের কাছে পরিস্কার হতে থাকে পাকিস্তানী প্রেতাত্মারা কেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, মানুষ বুঝতে শুরু করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে স্বৈরতন্ত্রের পায়ের নিচে পিষ্ঠ করতে। ২৫ বছরের ইন্দিরা মুজিব চুক্তিকে যারা গোলামী চুক্তি বলেছিল সেই চুক্তি ছিল আমাদের রক্ষাকবচ, ঘাতকদের আশ্রয়দাতা জিয়া সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম সংযুক্ত করে ধর্মীয় অনুভূতিতে সুড়সুড়ি দিয়ে বাহবা নেওয়ার পর মানুষের বুঝতে বাঁকি রইল না বঙ্গবন্ধু আইন করে মদ, জুয়া, হাউজি, বন্ধ করেছিলেন তা জিয়া আবার চালু করেন।

দেশরত্ন শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তের শপথে বাংলার মানুষকে সাথে নিয়ে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অসিম সাহসিকতায় এগিয়ে চলার পথে কমপক্ষে ২০ বার তাকে বিভিন্ন ভাবে হত্যা চেষ্টা করা হয় যাতে অন্ততঃপক্ষে ৬৬ জন নেতাকর্মীর জীবন ও কয়েক হাজার নেতাকর্মী আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেন। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবানী ও মানুষের দোয়াই আর ভালোবাসায় বাররার মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে আবারোও মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে আঁকা-বাঁকা পথে চলা। কখনও পুলিশি বাঁধা, কখনও ক্যান্টনমেন্টে বন্দী, কখনও গৃহবন্দী, কখনও কারাগারে বন্দী সবকিছু দু’পায়ে দোলে দীর্ঘ ২১ বছর পরে ১৯৯৬ সালে জনতার রায়ে সামরিক স্বৈরশাসন, সন্ত্রাসী আর জঙ্গীবাদের অভয়ারণ্য, দূর্নীতি, দুঃশাসনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর শোষণমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে ভেঙ্গে পড়া আর্থিক, কৃষি, কল কারখানা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এক কথায় দেশ পূণর্গঠনের কাজে হাত দেন, দেশরত্ন শেখ হাসিনার সততা সাহসিকতাপূর্ণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারের প্রশংসা পেল, বাংলার মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্রের পথ পাড়ি দিয়ে মোটা ভাত, মোটা কাপড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে শান্তি ও সাম্যের বাংলাদেশে এগিয়ে চলছিল।

২০০১ এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কারচুপির মাধ্যমে জামায়াত-বিএনপি জোটকে বিজয়ী করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। ভোটের যোগফলে আওয়ামী লীগ বেশী পেয়ে পরাজিত আর প্রতিক্রীয়াশীল গোষ্ঠি কম ভোট পেয়েও রাষ্ট্র ক্ষমতায় মসনদে বসে।’৭১ আর ’৭৫ এর ঘাতকদের সর্দার খালেদা-নিজামীদের সরকার দূর্নীতির নটরাজ তারেকের হাওয়া ভবন এই দুই সরকার দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন, অগ্রগতি, শান্তির বাংলাদেশকে লুটপাট আর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ধর্ষণ, হত্যা তাদের বাড়ি লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগের ১৯ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সারের দাবী করার অপরাধে ২০ জন কৃষককে হত্যা, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনার কথা বলার অপরাধে শ্রমিক হত্যা, বিদ্যুতের দাবি করার অপরাধে কানসাট সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে পাখির মত গুলি করে হত্যা, বাংলাভাই নামে জঙ্গী সৃষ্টি করে দেশব্যাপি এক সাথে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ, আদালতে বোমা হামলা, বিদেশী রাষ্ট্রদূত হত্যা চেষ্টা, রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিয়ে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র আমদানি, দূর্নীতিতে খালেদা নিজামীদের সরকার পরপর ৫ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান, ’৭১ আর ’৭৫ এর ঘাতকদের লালনকারী লুটপাট আর সন্ত্রাসীর রাণী খালেদা জিয়ার পথের কাঁটা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ২০০৪ সালে ২১ আগষ্ট সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে রাষ্ট্রীয় আনুকূলে গ্রেনেড হামলায় মানুষের অধিকার আদায়ের বিশ্বস্ত ঠিকানা দেশরত্ন শেখ হাসিনা আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেলেও নারী নেত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আইভি রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়, আহত হয় কয়েক হাজার নেতাকর্মী, চিরদিনের মত পঙ্গুত্ব বরণ করেন শতাধিক নেতাকর্মী।

প্রিয় মাতৃভূমি যেন লুটপাট সন্ত্রাস জঙ্গীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়, বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশ জঙ্গি ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র নামে পরিচিতি পায়, বিদেশিরা দেশকে সন্ত্রাসীর কালো তালিকাভূক্ত করে। এমন এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া তার তল্পিবাহক তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জ্বি হুজুর মার্কা নির্বাচন কমিশন দিয়ে আবার ক্ষমতায় আসার অপচেষ্টাকে প্রতিহত করার ডাক দিলেন শেখ হাসিনা, আন্দোলনে টলমল খালেদা-নিজামীরা রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহম্মদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে জনতার রোষানল থেকে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন কে বলেন আপনার অধীনে কোনো নির্বাচন মানুষ মেনে নিবে না। এবার খালেদা ইয়াজ উদ্দিনের ষড়যন্ত্রে সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহম্মেদের সমর্থনে ফখরুদ্দিন আহম্মেদ কে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করে অলিখিত সামরিক শাসন জারি করে দূর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেন সেই সাথে রাজনৈতিক কর্মকান্ডও নিষিদ্ধ করে কিন্তু জরুরী আবস্থা ঘোষণার কিছু দিনের মধ্যে দূর্নীতির মহারানী খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পূর্বে দূর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার করল, তারপর গ্রেফতার করল খালেদা জিয়া কে, তাদের এই কর্মকান্ডে মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিল। জনতার দাবির মুখে শেখ হাসিনা প্রায় ১ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পান কিন্তু প্রায় একই সময়ে খালেদা জিয়াও মুক্তি পান।

শেখ হাসিনা মইনুদ্দিন-ফকরুদ্দিন কে সাফ জানিয়ে দেন রাজনীতির অবাধ সুযোগ দিতে হবে, সেই সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে এবং সংসদ নির্বাচনের আগে অন্য কোন নির্বাচন হবে না। অতঃপর বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের বহুল কাঙ্খিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০৮ অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মহাজোট সরকার গঠন করে জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন আর মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথে অগ্রসর হন। ২০০৮ থেকে ২০২০ টানা তৃতীয় বারের মতো রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা দারিদ্র মুক্ত, নিরক্ষরতা মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলেছে, বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে এখন রোল মডেল। মুজিব শতবর্ষের শুরুতে মাথা উঁচু করে বলা যেতে পারে জীবিত মুজিবের চেয়ে আদর্শিক মুজিব অনেক বেশি শক্তিশালী। রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তর পথে এগিয়ে চলেছে।

স্বৈরশাসকদের হৃদপিন্ড কাঁপানো নাম বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু বিবিসি’র জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই স্বৈরশাসকদের কারণে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ২১ বছর রেডিও টেলিভিশনে সম্প্রচার বন্ধ করে তারা ক্ষান্ত হয়নি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে এবং জাতীয় দিবসে এই ভাষণ বাজালে গ্রেফতার, হয়রানি ও নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক ভাষণ আজ বিশ্ব সভ্যতার অংশ। বাংলার মাটিতে মুজিব বিহীন বাংলাদেশে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলন্ঠিত করে পাকিস্তানী ভাবধারার ধারক বাহক সেজে আস্ফালনকারীদের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ’৭১ ও ’৭৫ এর খুনীদের বিচারের কাঠগাড়ায় দাঁড় করিয়ে জাতির সামনে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের কলঙ্কিত ইতিহাস উন্মোচিত করে শাস্তি প্রদান করে, জাতিকে কলঙ্কের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বাংলাদেশকে দারিদ্রের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে বাংলার জনপদ, গ্রাম আর শহরের মধ্যে থাকবে না কোনো পার্থক্য। বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সুখি সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন নয় বাস্তবে রূপ লাভ করেছে। বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।

লাল সবুজের পতাকা আজ মহাসড়ক থেকে মহাকাশে বিস্তার লাভ করেছে। উন্নয়নের দশ দিগন্তে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাহসী ও সঠিক নেতৃত্বে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশত বার্ষিকীতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। সেই সাথে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের পাশাপাশি শেখ হাসিনার ঝুলিতে জমা হয়েছে প্রায় ৪১টি আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও পুরস্কার। এই অর্জিত সম্মান শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে পাকিস্তানী ভাবধারার অত্যাচারী আর স্বৈরাচারীদের সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ’৭৫ এর হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার মূল্যবোধ আবার ফিরিয়ে এনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে পরিচালিত করছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে।

লেখক-  সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ।


  • 3.9K
    Shares
শর্টলিংকঃ