মেসির ম্যাজিকে বার্সেলোনার জয়


ইউএনভি ডেস্ক :

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম পর্বের ম্যাচ। ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ লিভারপুল। সেই ম্যাচে ৩-০ গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে ফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেলো বার্সেলোনা।

ফ্রি-কিকে মেসির দুর্দান্ত গোল
ফ্রি-কিকে মেসির দুর্দান্ত গোল

বুধবার (১ মে) ক্যাম্প ন্যুতে সাবেক ক্লাব লিভারপুলের বিপক্ষে মাঠে নামেন বার্সেলোনার ফিলিপে কৌতিনহো এবং লুইস সুয়ারেজ।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে খেলার চেষ্টা করে দুই দল। তৃতীয় মিনিটেই তার দেয়া পাস লিভারপুলের রক্ষণভাগে ফাটল ধরায়। ইভান রাকিতিচ সুয়ারেজকে বল দেয়ার চেষ্টা করলেও লিভারপুল ডিফেন্ডার মাতিপ দারুণ ব্লক করে বাঁচান দলকে।

ম্যাচের ৬ মিনিট সময়ে সালাহর এগিয়ে দেয়া বলেকে পেছন থেকে ম্যান টু ম্যান ট্যাকলে পড়ে যায় সাদিও মানে। লিভারপুল পেনাল্টি আবেদন করলেও তাতে সাড়া দেননি রেফারি।

ম্যাচের ১৩ মিনিট সময়ে কৌতিনহোর বাড়িয়ে দেয়া বল পেয়েও এবার মেসিকে হতাশ করেন লিভারপুলের অ্যান্ডি রবার্টসন। দারুণ এক ট্যাকলে শট নিতে বাধা দেন তিনি। আবার বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মেসি চেষ্টা করে লিভারপুল ডিফেন্ডার মাতিপকে ছাড়িয়ে যেতে। এ সময়ে ডি-বক্সে মাতিপের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি আবেদন করে মেসি যাতে রেফারি সাড়া দেননি।

ম্যাচের প্রথম দিকে লিভারপুলে সালাহ-সাদিও মানেদের আক্রমণে গতিময় ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও প্রথম ধাক্কা পায় ২০ মিনিটের সময়ে। দলের তারকা মিডফিল্ডার নবি কেইটাকে মাঠ ছাড়তে হয় ইনজুরিতে।

 

ম্যাচের ২৬ মিনিটের সময় বাম প্রান্ত থেকে জর্ডি আলবার বাড়িয়ে দেয়া বল পায় সুয়ারেজ। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে এগিয়ে দেন বার্সেলোনাকে। ফলাফল বার্সেলোনা ১- ০ লিভারপুল।

২০১৮ সালের এপ্রিলে গতবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রোমার বিপক্ষে গোলের পরে এটাই সুয়ারেজের প্রথম গোল। গোলবারে ৩৬ বার শট নিয়ে এবারের আসরের এই প্রথম গোল করেন সুয়ারেজ নিজের সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে। আর এই গোলটিই হয়ে যায় চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার পাঁচশতম গোল। রিয়াল মাদ্রিদের পরে দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে বার্সেলোনা এই রেকর্ড গড়লো।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৪৭তম মিনিটে লিভারপুলের জেমস মিলনারের জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে আটকে দেয় বার্সেলোনা গোলরক্ষক টের স্টেগান। এটাই ছিল ম্যাচে তার প্রথম সেভ। ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে রবার্টসন ও সাদিও মানের কাছ থেকে পাওয়া বলে সালাহ শট নিলেও তা প্রতিহত করে বার্সেলোনার গোলরক্ষক। ৫৯তম মিনিটে জেমস মিলনার আবার সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বার্সেলোনা গোলরক্ষক।

লিভারপুলের আক্রমণ প্রতিহত করতে রক্ষণভাগে শক্তি বাড়ায় বার্সেলোনা। কোচ আর্ণেস্তো ভালভার্দে কৌতিনহোর বদলি হিসেবে মাঠে নামান নেলসন সেমেদোকে। লিভারপুলের আক্রমণের ধারার বিপরীতে ম্যাচের ৬৮ মিনিটের সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও শট নিতে ব্যর্থ হন সুয়ারেজ।

৭৫তম মিনিটে ব্যবধান ২-০ করে ফেলেন মেসি। সুয়ারেজের শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে বুক দিয়ে বল নামিয়ে জালে পাঠান মেসি। লিভারপুলের বিপক্ষে তৃতীয় দেখায় এটি তার প্রথম গোল, চ্যাম্পিয়নস লীগে নিজের ৩২তম গোল। ফলাফল বার্সেলোনা ২-০ লিভারপুল।

লিভারপুল কোচ ইয়ান ক্লপ দলের আক্রমণ ভাগের শক্তি বাড়াতে মাঠে নামায় দলটির ব্রাজিলিয়ান তারকা ফিরমিনোকে। আক্রমণের ধার বাড়াতে পারলেও ম্যাচের ৮২ মিনিটের সময় মেসিকে ফাউল করে ফাবিনহো। ফ্রি-কিক নেন মেসি নিজেই। লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে বোকা বানিয়ে মেসি বল জড়ান লিভারপুলের জালে। আলিসন ডান দিকে ঝাঁপিয়ে চেষ্টা করলেও আটকাতে পারেননি বার্সেলোনার হয়ে করা মেসির ৬০০তম গোলকে। ফলাফল বার্সেলোনা ৩-০ লিভারপুল।

৮৪ মিনিটে ভাগ্যদেবীও মুখ ফিরিয়ে নেয় লিভারপুলের দিক থেকে। ফিরমিনোর নেয়া শট গোললাইন থেকে রাকিতিচ ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে শট নেন সালাহ। কিন্তু পোস্টে লেগে বল ফিরে আসে মাঠে।

ম্যাচে ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের পরেও ষষ্ঠ মিনিটে বার্সেলোনা ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করে। কাউন্টার এটাকে মেসি বল পাস দেন ওসমান ডেম্বেলেকে। কিন্তু তার নেয়া দুর্বল শট জমা পড়ে লিভারপুলে গোলরক্ষক আলিসনের গ্লাভসে।

৮মে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ফিরতি লিগের খেলা হবে। সেই ম্যাচ যদি গোলশূন্য সমতা রেখেও শেষ করে বার্সেলোনা তবে পৌঁছে যাবে ২০১৮-২০১৯ বর্ষের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। অপরদিকে লিভারপুলকে ফাইনালে পৌছুতে হলে জিততে হবে অন্তত ৪-০ গোলের ব্যবধানে কিন্তু নিজেদের জালে জড়াতে দেয়া যাবে না কোন গোল।


শর্টলিংকঃ