ইংল্যান্ডের লিচেস্টারে ইমামের নামে স্কয়ার

  • 2
    Shares

সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের লিচেস্টারের প্রখ্যাত ও বরেণ্য ইমাম শায়খ আদম। দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মসজিদের মাধ্যমে সেখানকার মুসলিমদের কল্যাণে তিনি বিভিন্ন কাজ করে আসছেন। তার উল্লেখযোগ্য সেবা ও অবদানের সম্মাননা স্বরূপ সিটি কাউন্সিল হাইফিল্ড স্কয়ারটি ‘শায়খ আদম স্কয়ার’ হিসেবে নাককরণ করেছে। লিচেস্টারশায়ার লাইভের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনটি জানা গেছে।

শায়খ আদম লিচেস্টারের অন্যতম সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। ৮৫ বছর বয়সী ইমাম শায়খ মাওলানা আদম সাহেব স্পিনি পাহাড়ের আসফোর্ডবি স্ট্রিট জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক।

মসজিদের চেয়ারম্যান ইকবাল ম্যান্ডালা বলেন, ১২ বছর বয়স থেকে শায়খ আদমের অধীনে রয়েছি। তিনি খুব নম্ব-ভদ্র ও বিনয়ী। প্রথমে শায়খ আদম নামকরণের জন্য সাইন করতে চাইছিলেন না। কিন্তু আমরা মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাকে সম্মান করতে চেয়েছিলাম।’

ইকবাল ম্যান্ডালা জানান, শায়খ আদম যখন অল্প বয়সী ছিলেন, তখন বিভিন্ন রকম পরামর্শের জন্য মানুষ তার দরজায় ২৪ ঘন্টা কড়া নাড়তেন। যেকারো সঙ্গে তিনি কথা বলতেন। সর্বদা মানুষের জন্য কাজ করেছেন তিনি।

শায়খ আদমের প্রতিষ্ঠিত লিচেস্টার মসজিদ। ইকবাল আরও বলেন, আমরা বিচ্ছিন্ন কোনো জনগোষ্ঠী নই। আমরা মানুষের সঙ্গে মানুষের স্বার্থে কাজ করতে চাই। তিনি বছরের পর বছর যে অবদান রেখেছেন, তা এর একটি বড় অংশ। শায়খ আদমের নামে স্কয়ারটির নামকরণ করা কর্তৃপক্ষের চমৎকার সিদ্ধান্ত।

নামকরণের সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের কাজটি শুরু করেছিলেন পূর্ব লিচেস্টারের সংসদ সদস্য কিথ ভাজ। তিনি এই মসজিদের দীর্ঘদিনের সহযোগী ও সমর্থক। এ প্রসঙ্গে কিথ বলেন, আমি আনন্দিত যে শহরটি এমন এক ব্যক্তিকে সম্মান দিচ্ছে, যিনি পুরো সম্প্রদায়কে একত্রিত করার জন্য অনেক কিছু করেছেন।

উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে ইকবাল বলেন, এটি কেবল নিদর্শন নয়। বরং এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এটির অনেক তাৎপর্য রয়েছে। যদিও আমরা সাধারণত কাউকে মৃত্যুর পরে তার সম্মান করি; তবে এটি এমন একজনের দুর্দান্ত স্বীকৃতি, যিনি সবার জন্য অনেক কিছু করেছেন এবং এখনও আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।

শায়খ আদমের নামে যে স্কয়ারটি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, শায়খ আদমের ছেলে প্রখ্যাত ইংলিশ স্পিকার মুফতি মুহাম্মাদ বিন আদম সুদক্ষ ও বিজ্ঞ আলেম। শায়খুল ইসলাম বিচারপতি মুফতি তাকি উসমানির স্নেহধন্য শিষ্য। ভারতের বিখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা খলিল আহমদ সাহারানপুরি (রহ.) রচিত ‘আল মুহান্নাদ আলাল মুফান্নাদ’ গ্রন্থের ওপর কাজ করেছেন তিনি। জর্দানের বিখ্যাত প্রকাশনী দারুল ফাতাহ থেকে ‘মাবাহিস ফি আকায়িদি আহলিস সুন্নাহ’ নামে এটি প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ইংলিশে তার অনেক বয়ানের ভিডিও ইউটিউবে পাওয়া যায়। লেকচার ও দাওয়াতি কাজে এপর্যন্ত তিনি বহু দেশ সফর করেছেন। লিচেস্টারে অবস্থিত ‘দারুল ইফতা’র পরিচালক তিনি।

লিচেস্টার কেবল ইংল্যান্ডের বৃহত্তম শহর নয়, বরং ব্রিটেনের প্রাচীনতমগুলোর অন্যতম। বর্তমানে লিচেস্টারে খ্রিস্টধর্ম সামগ্রিক জনসংখ্যার ৩২.৪%। তবে লিচেস্টারের দ্বিতীয় জনপ্রিয় ধর্ম ইসলাম। এখানে মোট জনসংখ্যার ১৮.৬% মুসলমান রয়েছে।


  • 2
    Shares
শর্টলিংকঃ