এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের আটক রাখা হতে পারে বন্দিশিবিরে

  • 1
    Share

আসামের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকত্ব তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ। তালিকা থেকে বাদ পড়ায় রাজ্যটিতে ১৯ লাখ লোক রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে তাদের ঠাঁই হবে শরণার্থীশিবিরে।


নাগরিকপঞ্জি থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা মূলত অতি দরিদ্র এবং বেশিরভাগই মুসলমান। যদিও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের আশঙ্কা, বাঙালি অনেক হিন্দুর নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সে ক্ষেত্রেও দেখা যাবে গরিব লোকজনই আসলে বাদ পড়েছে।

আইনি সাহায্য নিতে গড়ে প্রত্যেক ব্যক্তির খরচ পড়বে ৪০ হাজার ভারতীয় রুপির মতো। যদি ওই মামলা সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত যায়, তবে খরচ আরও বাড়বে। দরিদ্র এ মানুষগুলো আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘোরার এবং মামলা লড়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে পাবে সেটাও বড় প্রশ্ন।

আসামের লেখিকা সঙ্গীতা বড়ুয়া পিশারতি বিবিসিকে বলেন, ‘যাদের নাম তালিকায় নেই তারা এরই মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত। তার অন্যতম প্রধান কারণ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ। অনেকেই এটা নিয়ে অভিযোগ করছেন। ফলে তাদের ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে এটা ভেবেই অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।’

যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে যারা বিদেশি বলে ঘোষিত হবেন তাদের নিয়ে কী করবে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এর আগে বেশ জোর দিয়েই ‘অবৈধ মুসলমান অভিবাসীদের’ বাংলাদেশে বিতাড়নের কথা বলেছিল। কিন্তু প্রতিবেশী বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই তাদের গ্রহণ করবে না।

নাগরিকপঞ্জিতে বাদ পড়াদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত থেকে বের করে দেয়া হতে পারে বলে যে আলোচনা তা নিয়ে বাংলাদেশের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে।

বিদেশি ঘোষিত হওয়া লোকজনকে যদি বিতাড়ন করা নাও হয় বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হতে পারে। এছাড়া তারা নিজেদের সম্পত্তির দখল পাবে কিনা বা একজন নাগরিক যেসব সামাজিক সুবিধা পান সেগুলো পাবেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

হতে পারে বন্দিশিবির থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাদের মৌলিক কিছু সুযোগ-সুবিধাসহ কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে। কিন্তু তারা আর ভোট দিতে পারবেন না।


  • 1
    Share
শর্টলিংকঃ