পাবনায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • 3
    Shares

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি :

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আমেনা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভেড়ামারা চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আমেনা খাতুন ফরিদপুর উপজেলার হাংড়াগাড়ী গ্রামের আমির প্রামাণিকের মেয়ে।

ওই গৃহবধূর স্বামী সোহেল রানা সেনাবাহিনীর এজন সদস্য। তিনি দাবি করেছেন, ‘তার স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। সেজন্য আত্মহত্যা করেছে।’

অপরদিকে, নিহতের বাবা ও মায়ের দাবি- ‘আমেনাকে হত্যা করে তার স্বামী অথবা শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।’

তবে মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ফলে গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে রহস্যের ‍সৃষ্টি হয়েছে।

আমেনার শ্বশুর বাড়ির লোকজন দাবি করে, রোববার সকালে আমেনা তার মেয়েকে নিয়ে বাড়ির পাশের স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে যান। দুপুরে বাড়িতে ফেরেন।

পরে একজন প্রতিবেশি বাড়িতে এসে আমেনাকে তার শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে আশেপাশের সবাই এসে পুলিশে খবর দেয়।

নিহতের বড় ভাই জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমেনার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে আসছিল তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনও করতো তারা।

তিনি বলেন, আমেনা আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করে এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এ হত্যার বিচার চায়।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, লাশ উদ্ধার করে সোমবার সকালে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হবে।

‘প্রতিবেদন হাতে পেলে আত্মহত্যা নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে’ বলেন ওসি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১০ বছর আগে সেনা সদস্য সোহেল উপজেলার রামনগর গ্রামের খয়ের সরকারের মেয়ে আদুরী খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের ৮ বছর পর তার প্রথম স্ত্রী আদুরী মারা যান।

এরপর পারিবারিকভাবে আমেনা খাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সোহেল। বিয়ের পর সোহেল-আমেনা দম্পতি সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

 


  • 3
    Shares
শর্টলিংকঃ