ফের দল গোছানোর উদ্যোগ আ.লীগে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইউএনভি ডেস্ক:

দল গোছানোর কাজ আর ঝুলিয়ে রাখতে চাচ্ছেন না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। আবার এই কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তারা। করোনার কারণে পুরোদমে না হলেও সীমিত পরিসরে জেলা-উপজেলা সম্মেলন এবং সভা-সমাবেশ করার কথা ভাবা হচ্ছে।


পাশাপাশি সম্মেলন হওয়া জেলা-উপজেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং কেন্দ্রে জমাপড়া অভিযোগগুলোও যাচাই-বাছাই ও সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। এসব কাজে এবার প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

এ বিষয়ে দলটির অভ্যন্তরে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনাও হয়েছে। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পেলেই মাঠে নামবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তারা বলছেন, করোনার কারণে দল গোছানো কাজে এমনিতেই অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এখন আর বসে থাকা যায় না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, ‘দল গোছানোর কাজ আবার শুরু করার পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। করোনার কারণে অনেক সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। কিন্তু আমরা বসে থাকতে রাজি নই। খুব শিগগিরই দল গোছানোর কাজ শুরু করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা আলোচনা করেছি, করোনা সংক্রমণ যদি না কমে তাইলে এগুলো ভার্চুয়ালি করব। আমরা প্রস্তুতিও নিচ্ছি। আমাদের দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পেলেই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলগুলো ব্যবহার করে কাজ সামনে এগিয়ে নেব।’

আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের কাজ চলছে। তবে দল গোছানোর কাজে আরও গতি আনতে চাই। করোনা সংক্রমণের প্রকোপ কমলে সভা-সমাবেশ সম্মেলন সীমিত পরিসরে শুরু করব। তবে করোনাকালে বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই-বাছাই, সম্মেলন হওয়ার কমিটির পূর্ণাঙ্গ করা- এই কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হবে।

একই বিষয়ে দলটির রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক কাজ বন্ধ নেই। তবে সম্মেলন ও দল গোছানো কাজ হচ্ছিল না। দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে খুব শিগগিরই নতুন করে এই কার্যক্রমগুলো শুরু করব।’

দলীয় সূত্র জানায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়াবহ রূপ নিয়ে কিছুটা কমলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দ্বিতীয় ঢেউয়ের গতি-প্রকৃতি কী হয় সেটা নিয়ে এখনো উদ্বেগ আছে। তাই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় ধরন শঙ্কা বাড়াচ্ছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ আরও কিছুদিন বড় ধরনের জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে চাইছে। আবার তৃণমূল পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানোর কাজও একেবারে বন্ধ রাখতে চায় না। তাই সীমিত পরিসরে জনসমাবেশ এড়িয়ে করা যায় এমন কাজগুলোই কেবল চালিয়ে যাওয়া হবে।

করোনার কারণে দীর্ঘ সময় দল গোছানোর কাজ স্থগিত রাখতে হয়েছিল আওয়ামী লীগকে। প্রায় সাত মাস পর গত সেপ্টেম্বরে আবার এই কাজ শুরু করেছিল দলটি। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ গত বছরের শেষে দিকে সম্মেলন হওয়া সহযোগী সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। উপ-কমিটিগুলোও পূর্ণাঙ্গ করা হয়।

এই সময়ে ওয়ার্ড ইউনিয়ন থেকে শুরু করে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা সম্মেলনের কাজও শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় কাজ শুরু হওয়ার পরে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসব সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই অনেক লোকের সমাগত হয়। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি লোকসমাগম বেশি হয় এমন সভা-সমাবেশ ও সম্মেলন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা আঘাত হানে।

সূত্র আরও জানায়, গত শীতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কায় মার্চ পর্যন্ত দল গোছানোর কাজ স্থগিত করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু মার্চেই করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকে। ফলে দল গোছানোর কাজ আরও পিছিয়ে যায়। সেই কাজ এখনো শুরু হয়নি।

এভাবে আরও কিছু দিন চললে জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা ছিল না তা পূরণ সম্ভব হবে না। কারণ এখনো তৃণমূলের বেশরিভাগ জেলা ও উপজেলা মেয়াদোত্তীর্ণ। যেগুলোর সম্মেলন হয়েছে সেখানেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের মেয়াদও শেষ হয়েছে অনেক আগে।

ফলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন করোনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা ঠিক হবে না। এই কারণে সীমিত পরিসরে হলেও দল গোছানোর কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

এ বিষয়ে শনিবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জেলা-উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন শিগগিরই শুরু হবে। যেসব সাংগঠনিক শাখার সম্মেলন হয়েছে, নিয়মিত কমিটি রয়েছে সেগুলোতে সদস্য সংগ্রহ বই দেওয়া শুরু করব। কারণ করোনা কবে শেষ হবে, কেউ জানে না। আমাদেরকে এর সঙ্গে বসবাস করতে হবে। এর মধ্যে বাঁচতে শিখতে হবে। আবার সংগঠনও চালিয়ে যেতে হবে।

 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
শর্টলিংকঃ