বিদেশে যাওয়া আট কর্মকর্তার ৬জনই বিএমডিএ’র প্রকল্পে জড়িত নন

  • 62
    Shares

বিশেষ প্রতিবেদক :

বিএমডিএ’র এই প্রকল্পে খাল খনন ও খালের পানি কৃষিকাজে কীভাবে জমিতে  দেয়া যায়-তা দেখতেই নেদারল্যাণ্ডে গেছেন আট কর্মকর্তা। অথচ মাত্র দু’জন ছাড়া বাকিরা এ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িতই নন। প্রকল্পের আওতায় ২৪ কিলোমিটার খাল খননের কথা। এরইমধ্যে ১৩ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। মাঝপথে তাদের এই ভ্রমণ। 

খাল খনন ও খালের পানি কৃষিকাজে জমিতে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জনে জন্য এবার বিদেশ সফরে গেছেন আট কর্মকর্তা। এরমধ্যে ৬জনই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। তারা কৃষিতে খালের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার দেখতে নেদারল্যাণ্ড গেছেন।বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের প্রকল্পের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে দেশ ও জনগণ কতটুকু লাভবান হবে-তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিজ্ঞতা নামে বিদেশ ভ্রমণ সুশাসনের পথে বড় বাধা বলেও মনে করেন তারা।

রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট, ও পবা উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ এরইমধ্যে প্রায় ৩০শতাংশ শেষ হয়েছে। মাঝপথে এসে প্রকল্প পরিচালক নাজিরুল ইসলাম, বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রশিদ, রাজশাহী রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল হক, পঞ্চগড় রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মো. নূরে আলম নেদারল্যাণ্ডে গেছেন। তাদের সঙ্গী হয়েছে পরিকল্পনা কমিশন ও  কৃষি মন্ত্রণালয়ের দু’জন করে চার কর্মকর্তা। বিএমডিএ‘র প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকেই পাওয়া যায় নি। তবে ভারপ্রাপ্ত সচিব ও মনিটরিং কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, খালের পানি কৃষিকাজে কীভাবে জমিতে দেয়া যায়-তা দেখতেই তাদের এই সফর। পানির সর্বোত্তম ব্যবহার করা যায় কীভাবে তা হাতে কলমে শিখতে কর্মকর্তারা নেদারল্যান্ড গেছেন।

বিএমডিএ’র প্রকল্প মানেই বিদেশ ভ্রমণ-এমন কথা কর্মকর্তাদের মুখে মুখে থাকলেও ক্যামেরার সামনে কথা চান না কেউই।  তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও পর্যায়ক্রমে সব কর্মকর্তাই বিদেশ সফর করে যাচ্ছেন। বিদেশে ঘুরতে কে না চায়! তাই কোনোভাবে জড়িত দেখিয়েই তারা ঘুরছেন। এটা মন্ত্রণালয়ও জানে। যেহেতু মন্ত্রণালয়েরও কর্মকর্তারাও এই বহরে থাকেন, তাই অভিযোগে কোনো ফল হয় না।

অভিযোগ উঠেছে, বিদেশ ভ্রমণে যাওয়া ৮জনের এই বহরের ছয় কর্মকর্তাই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। অথচ সরকারী টাকায় তারাও ঘুরছেন ইউরোপের এই দেশে। এরা হলেন-পরিকল্পনা কমিশনের এগ্রিকালচার ওয়াটার রিসোর্স এন্ড রুরাল ইনস্টিটিউশন ডিভিশনের যুগ্ম প্রধান আবু ইউসুফ মিয়া ও সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট চীফ ফরিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সচিব আল মামুন ও ফিল্ড সার্ভিস উইংয়ের উপ-পরিচালক (সীড) রাধেশ্যাম সরকার, বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রশিদ এবং বিএমডিএ’র পঞ্চগড় রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা মো. নূরে আলম।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের কৃষিভিত্তিক প্রকল্পে সরকারী কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন’র রাজশাহী অঞ্চলের সাবেক সমন্বয়ক সুব্রত কুমার পাল বলেন, বিদেশ ভ্রমণের পর অধিকাংশ কর্মকর্তাই সফলভাবে অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করেন না। ফলে এখানে সরকারের টাকার অপচয় হয়। এ প্রকল্পেও বিদেশ ভ্রমণকারীদের তালিকায় মনে হচ্ছে তারা প্রমোদ ভ্রমণে গেছেন।

উল্লেখ্য,  ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে চালু হওয়া এই প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে  ২৫  কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে খাল ২৮ থেকে ৩০ মিটার চওড়া ও তিন থেকে চার মিটার গভীর করে খনন করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 


  • 62
    Shares
শর্টলিংকঃ