রাজশাহীতে ফের এডিসের নমুনা সংগ্রহে মাঠে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

  • 359
    Shares

বিশেষ প্রতিবেদক :

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য ইউনিভার্সাল২৪নিউজকে জানান,  আজ রোববার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গিয়ে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননের স্থানগুলো থেকে স্যাম্পলিং সংগ্রহের কাজ শুরু হচ্ছে। এরপর সেগুলো হ্যাচারিতে এনে পরীক্ষা করে দেখা হবে নতুন করে এডিস জন্ম নিচ্ছে কি না। 

এর আগে গত ২ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতি নিয়ে মাঠে স্যাম্পলিং সংগ্রহ করেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশসহ নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডেও ১০০টি স্পট থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তারা। এ সময় তারা ১৪টি স্পটে এডিস মশার লার্ভার ব্যাপক উপস্থিতি দেখতে পান।

এদিকে, রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী কমলেও আক্রান্তের আশঙ্কা এখনো কমে নি। আসছে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এডিস মশার প্রজননের সময়। তাই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বিশেষ করে নগরীর নির্মাণাধীন ভবনগুলো পর্যবেক্ষণে রাখার তাগিদ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হতাসপাতালে। তার আগের দিন শনিবার ১১জন, শুক্রবার ১০ জন এবং বৃহস্পতিবার ৮ জন ভর্তি হয়েছিলেন।

রামেক হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৭ জুলাই থেকে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি শুরু হয়। এর মধ্যে রোববার পর্যন্ত মোট ৫২৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন মোট ৫১৫ জন ডেঙ্গুরোগী। এর মধ্যে মাত্র চার জন রাজশাহীতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। আর অন্যরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মাত্র ১৮ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ এক সপ্তাহ আগেও হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২শ ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

যোগাযোগ করা হলে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস রোববার সকালে বলেন, ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই কমছে। যে পরিমাণ রোগী ভর্তি হচ্ছেন তার চেয়েও বেশি রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছেন। আর আক্রান্তদের বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকা বা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

তবে গত ১২ আগস্ট একজন রোগী ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আব্দুল মালেক নামে ওই ব্যক্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বহরম হাউসনগর মহল্লার বাসিন্দা ছিলেন।  তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। সেখানে গিয়ে ডেঙ্গুরোগে হয়েছিলেন। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পার করে তিনি হাসপাতালে আসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে স্বস্তি প্রকাশ করলেও রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য বলছেন, এখানেই থেমে গেলে চলবে না। কারণ এডিস মশার প্রজননের সময়কাল এখনো বাকি। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগে মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু এখনো বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে।  নগরীর নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। লোকজনের চলাচলও কম থাকে। তাই পানি জমে এসব ভবনে এডিস মশা জন্ম নেয়ার আশঙ্কা বেশি। এজন্য সিটি কর্পোরেশনকে এসব ভবন এডিসমুক্ত করতে বলা হয়েছে।


  • 359
    Shares
শর্টলিংকঃ