রেশম চাষের ৪২ বছর পর লাভের মুখ দেখলেন মণ্টু

  • 50
    Shares

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

মণ্টু ৪২ বছর ধরে রেশম চাষ করে আসছেন। কিন্তু কখনোই লাভের মুখ দেখেন নি। তাই বলে দমেও যান নি। নানা সংকটের মধ্যেও চলছিল রেশম চাষ। তবে এবার তিনি  লাভের টাকা ঘরে তুলেছেন।

রেশমের গুটি পরিচর্যায় ব্যস্ত মণ্টু দম্পতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার যাদুনগর গ্রামের মুন্টু আলী। তিনি প্রায় ৪২ বছর ধরে রেশম চাষে জড়িত। তার সংসারে রয়েছে ৩ ছেলে ৩ মেয়ে ও স্ত্রী। যুবক বয়স হতেই জড়িয়ে পড়েন রেশম চাষে। ১৯৭৫সাল থেকে রেশম চাষ করে আসছেন। প্রথমে ভাল দাম পাওয়ায় প্রায় ৫ বিঘা জমিতে রেশম চাষ করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে রেশমের দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন। তার পরেও ছাড়েননি এই পেশা। বর্তমানে রেশমের দাম ভাল পাওয়ায় এবার ২ বিঘা জমিতে রেশম চাষ করেছেন।

তিনি বলেন,চলতি বছর ১৫০টি ডিম নিয়েছিলেন ভোলাহাট রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় হতে। তা থেকে ৩মণ গুটি পেয়েছেন। গুটিগুলো প্রতি মণ ১৪হাজার টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। সরকারীভাবে বিনা মূল্যে ডিম,তুত গাছ,চাষের জন্য প্রতি ৫ কাঠায় ৩ হাজার টাকা,ডালা,নেট ইত্যাদি পাওয়ায় রেশম থেকে আয় হচ্ছে ভাল। এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে রেশম ঘর বানানোর জন্য জন প্রতি ৩০ হাজার করে টাকাও দিয়েছে সরকার। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় দারুন খুশি মন্টু আলী।

কালের বিবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে রেশমের ঐতিহ্য। স্থানীয় রেশম বিভাগের উদাশীনতা ও নায্যমূল্য না পেয়ে চাষীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল রেশম চাষ থেকে। ফলে ৩শ বিঘা থেকে রেশম চাষ নেমে আসে প্রায় ১শ বিঘাতে।

ভোলাহাট রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে,চলতি বছরে শুধু মাত্র ভোলাহাট উপজেলাতে ৩শ৫০ জন চাষীর মাধ্যমে রেশম চাষ হয়েছে প্রায় ২শ ১৭ বিঘা জমিতে। এর মধ্যে রেশম বোর্ডের জমিতে হয়েছে ৬৭ বিঘা ও উপজেলাতে চাষীরা চাষ করেছেন ১৫০ বিঘাতে।

ভোলাহাট রেশম রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক (জোনাল কার্যালয়) মো.মাসুদ রেজা জানান,ভোলাহাটে এক সময় অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরাই রেশম চাষে জড়িত ছিল। কিন্তু বিএনপি সরকারের সময় ভারত ও চীন হতে সুতা আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দেয়ায় বাংলাদেশের রেশম চাষীরা সুতার দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকার রেশমের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছে।


  • 50
    Shares
শর্টলিংকঃ