শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন কতটা থাকা জরুরি?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইউএনভি ডেস্ক:

কোভিড-১৯ ভয়াবহ বিপর্যয় এনে দিয়েছে গোটা বিশ্বে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বলতা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বহু করোনা রোগী মারা যাচ্ছে অক্সিজেন স্বল্পতায়। যুক্তরাষ্ট্র-ভারতসহ পৃথিবীর ধনী দেশগুলোর হাসপাতালগুলো আইসিইউ স্বল্পতায় ভুগছে। আইসিইউতে অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় বহু রোগী মারা যাচ্ছে।


করোনার হটস্পট ভারতে চলছে অক্সিজেনের হাহাকার। করোনা শরীরে বাসা বাধলে অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, করোনায় আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ফুসফুস দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। ফলে অক্সিজেন নেওয়ার গতিও কমছে।

রক্তে অক্সিজেন স্যাচুরেশন মাপলেই বোঝা যায় ফুসফুসের জোর। অক্সিজেন স্যাচুরেশন অক্সিমিটার দিয়ে মাপা হয়। সেই মাপকেই চিকিৎসার পরিভাষায় বলে শরীরের ‘অক্সিজেন স্যাচুরেশন’ বা অক্সিজেনের মাত্রা।

আর এই অক্সিজেনের মাত্রাই নির্ধারণ করে রোগীর শারীরিক অবস্থা।একজন স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের অক্সিজেন স্যাচুরেশন বা মাত্রা সাধারণত ১০০ থাকে। খুব কমলেও সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে তা ৯৭-এর নিচে নামার কথা নয়। তবে ৯৪-এর নিচে নেমে গেলে তা চিন্তার।

করোনা আক্রান্ত অনেকের অক্সিজেনের মাত্রা তার থেকেও নিচে নেমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিখ্যান ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪-৯৩ এর নিচে নেমে গেলে বিপদ। তখন রোগীকে আর বাসায় রাখা ঠিক হবে না। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুসফুস। শ্বাস টানার পরে ফুসফুস সেই বায়ু থেকে অক্সিজেন পাঠায় রক্তে। যা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে গোটা শরীরে।

ফুসফুস দুর্বল হলে, শ্বাস টানার ক্ষমতা কমে যায়। তখন রক্তে অক্সিজেন পাঠানোর পরিমাণও কমে যায়। ফলে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গে কম অক্সিজেন পৌঁছায়।

এর থেকেই নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। কারো কারো ঝিঁমুনি ও বমি বমি ভাব হয় আবার কারো বা তার চেয়েও বেশি। অনেকেই জ্ঞান হারায় এমনকি মৃত্যুও ঘটে যদি অক্সিজেনের মাত্রা অনেকটা পড়ে যায়। ফলে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ঠিক থাকা খুবই প্রয়োজন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের করোনাজয়ী চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল হারুন যুগান্তরকে বলেন, বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে জ্বর হলেই করোনা হয়েছে ধরে নিয়ে সতর্কতা নিতে হবে। কারণ করোনায় একেবারে সাধারণ উপসর্গ দেখা যায়। প্রথমে জ্বর হয়। এরপর কারও কারও শ্বাসকস্ট দেখা দেয়। শ্বাসকস্ট দেখা দেয়া রোগীদের ক্ষেত্রেই জটিলতা, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। কারণ করোনায় রোগীদের সাইলেন্ট হ্যাপি হাইপক্সি হয়।

অর্থাৎ রোগী একেবারেই স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকবে, অথচ রোগী কিছুই টের পাবে না। কিন্তু যখন শ্বাসকস্ট শুরু হয় তখন অক্সিজেনের মাত্রা অনেক নেমে যায়। এ পর্যায়ে রোগী হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে নিচে নামে। এরপর এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে থাকে। কিন্তু এ সময়ে যেহেতু সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, সেহেতু দেহের অভ্যন্তরে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। লাংসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে রোগীকে আইসিইউতে নিলেও খুব একটা লাভ হয় না।

তিনি বলেন, ফলে অক্সিজেন কমতে শুরু করলেই চিকিৎসা দিতে হবে। করোনাভাইরাসের যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা নেই, তাই রোগীকে অক্সিজেন দিতে হবে। এটিই মূল চিকিৎসা। এরপর ফুসফুসের ক্ষতি যেন না হয় সেজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেয়া শুরু করতে হবে।

রোগীর শরীরে করোনার জীবাণু সংক্রমণের দিন থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত থাকে। তবে প্রথম থেকে পরবর্তী ৮ বা ১০ দিন ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময়টাতে রোগীর মুখে রুচি থাকে না। জ্বর থাকে। এ কারণে প্রথম থেকেই সতর্ক হতে হবে। যথাসময়ে অক্সিজেন দিতে পারলে করোনায় মৃত্যুর ঝুঁকি নেই বললেই চলে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
শর্টলিংকঃ