সেদিন সুশান্তের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল?

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইউএনভি ডেস্ক:

গত বছর আজকের এই দিনে (১৪ জুন) মারা যান বলিউডের সম্ভাবনাময়ী অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। তার মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা তা আজও অধরা। সে দিন কি ঘটেছিলো বান্দ্রার কার্টার রোডের মাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যাপার্টমেন্টে? সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি এক বছর চলে গেলেও।

মুম্বাই পুলিশ প্রথম দিন থেকেই দাবি করে এসেছে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন সুশান্ত। গত বছর অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সুশান্তের মৃত্যু মামলার ভার যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। তবে প্রায় ১০ মাস পরেও এখনও সিবিআই স্পষ্টভাবে জানায়নি, আত্মহত্যা নাকি খুন? সুশান্তের মৃত্যুর সঙ্গে কি আদৌ কোনও ফাউল প্লে জড়িয়ে রয়েছে? গোটা বিষয় নিয়ে নিরব সিবিআই আধিকারিকদের।

১৪ই জুনের ওই কালো দিনে সুশান্তের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন আরও চারজন। প্রয়াত অভিনেতার ক্রিয়েটিভ ম্যানেজার সিদ্ধার্থ পিঠানি, সুশান্তের রাঁধুনি নীরজ এবং দুই পরিচালক কেশব ও দীপেশ সাওয়ান্ত। একাধিক মিডিয়া ইন্টারভিউ এবং সিবিআই ও মুম্বই পুলিশকে দেওয়া বয়ানে সিদ্ধার্থ পিঠানি ও সুশান্তের রাঁধুনি নীরজ ১৪ জুনের ঘটনাক্রম সম্পর্কে কী জানিয়েছেন, চলুন ফিরে দেখি-

সিবিআইয়ের কাছে পিঠানির বয়ান- ‘সকাল ১০ থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে আমি হলে ছিলাম এবং গান শুনছিলাম। সেই সময় সুশান্তের স্টাফ কেশব এসে আমায় জানায়, স্যার (সুশান্ত) দরজা খুলছে না। এরপর আমি এই কথাটা দীপেশ (সাওয়ান্ত)-কে বলি এবং আমরা দুজনে সুশান্তের ঘরের সামনে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিই। কিন্তু কোনও সাড়াশব্দ মেলেনি’।

সিদ্ধার্থ পিঠানি এরপর জানান, ওই সময়ই মিতু সিং (সুশান্তের দিদি) তাকে ফোন করে জানায়, তিনি সুশান্তকে ফোন করছেন কিন্তু জবাব মিলছে না। দরজা ধাক্কা দেওয়া সত্ত্বেও উত্তর না মেলার কথা সিদ্ধার্থ জানান মিতু সিংকে, এবং যত দ্রুত সম্ভব সুশান্তের ফ্ল্যাটে পৌছাতে বলেন। এরপর দীপেশ বিল্ডিংয়ের গার্ডের কাছ থেকে চাবিওয়ালার খোঁজ নেয়।কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া না মেলায়, ইন্টারনেট ঘেঁটে মহম্মদ রফি নামের এক চাবিওয়ালার নম্বর জোগাড় করে ফোন করেন পিঠানি। দুপুর ১.০৬ নাগাদ মহম্মদ রফিকে ফোন করেন পিঠানি। দুপুর ১.২০ নাগাদ সেই চাবিওয়ালা এসে জানায়, চাবি তৈরিতে অনেক সময় লাগবে, তাই তালা ভাঙার নির্দেশ দেয় পিঠানি। সেই কথা ফোন মারফত মিতু সিংকেও জানায় সিদ্ধার্থ পিঠানি। সুশান্তের ক্রিয়েটিভ ম্যানেজারের কথায়, তালা ভাঙা হলে রফির প্রাপ্য ২০০০ টাকা দিয়ে তাঁকে ফ্ল্যাট থেকে বিদায় জানানোর পর, ওই ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে সে এবং দীপেশ’।

সুশান্ত মামলার অন্যতম বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পিঠানি যোগ আরও বলেন করেন, ঘর অন্ধকার ছিল, বাঁদিকের সুইচ বোর্ডে হাত দিয়ে আলো জ্বালায় সে। এরপরই দেখে সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য। সিলিং ফ্যানে ফাঁস লাগানো অবস্থায় সুশান্তের দেহ দেখতে পায় তাঁরা দুজনে। অভিনেতার পা দুটো বিছানার একপাশে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল, মুখ জানালার দিকে ছিল। সে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে মিতু সিংকে। এবং গোটা ঘটনা জানায়, এরপর ১০৮ নম্বর ডায়াল করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকে, এরপর তার ফোনে সুশান্তের অপর দিদি নীতু সিংয়ের ফোন আসে। এবং তাঁকেও গোটা ঘটনা জানায় পিঠানি। কিছু সময় পর ফের ফোন করেন নীতু। এবং তাঁর স্বামী ওপি সিং (যিনি একজন আইপিএস অফিসার) সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ নামাতে বলে। তার কথা মতোই নীরজকে ছুরি আনার নির্দেশ দেয় পিঠানি এবং সে ও দীপেশ বিছানার উপর উঠে, সুশান্তের দেহ নীচে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়। ততক্ষণে মিতু সিং সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছিল। তার কথা মতোই সুশান্তের নিথর দেহে প্রাণ আছে কিনা দেখবার চেষ্টা করে পিঠানি। সিপিআইর দেওয়ারও চেষ্টা চালায় কিন্তু কোনওরকম প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এরপর বান্দ্রা পুলিশের একটি টিম অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছায়।

নীরজের বয়ান-

নীরজের কথায়, ১৪ই জুন দুপুর দেড়টা নাগাদ দুজন তালা চাবি নির্মাতা সুশান্তের ফ্ল্যাটে আসেন । অভিনেতার শোয়ার ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। ইতিমধ্যে অনেকবার ডাকাডাকি করেও ঘরের ভিতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় চাবিওয়ালেক ফোন করে ডেকে ছিলেন সিদ্ধার্থ পিঠানি। কম্পিউটারাইসড লকের ডুপ্লুিকেট চাবি তৈরিতে এক ঘন্টা সময় লাগবে জেনে চাবিওয়ালাকে বাইরে থেকে লক ভাঙতে বলা হয় । তাঁরা তখন সেইমতো কাজ করেন ও দু হাজার টাকা দিয়ে সুশান্তের কর্মচারী দীপেশ তাঁদের বিদায় জানান ।

নীরজ এরপর যোগ করে , ‘ আমি দেখলাম গলায় সবুজ রঙের একটা কুর্তা পেঁচানো অবস্থায় সুশান্ত স্যারের দেহটা ঝুলছে সিলিং থেকে । তাঁর মুখটা ফেরানো ছিল জানালার দিকে । এই দৃশ্য দিকে আমি আতঙ্কে ঘর থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসি ।এরপরে সিদ্ধার্থ, স্যারের দিদি মিতুকে খবর দিয়ে ঘটনার কথা জানান । তারপরে উনি আমায় বলেন অবিলম্বে একটা ছুরি জোগাড় করতে । আমি ছুরি আনার পরে আমরা দুজনে কুর্তা কেটে আস্তে আস্তে স্যারের দেহটা নিচে বিছানায় নামাই । ওনার পা বিছানার বাইরে ঝুলছিল এবং শরীরের উর্ধাংশ ছিল খাটের ওপর । ঠিক এই সময় মিতু দিদি ঘরে প্রবেশ করেন এবং ভাইয়ের দেহ দেখে চিৎকার করে বলে ওঠেন ‘গুলশন, তুই এটা কি করলি ?’ এরপর উনি আমাদের বলেন স্যারকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দিতে।

‘…এই ঘটনার পরে সিদ্ধার্থ ,সুশান্তের বুকে চাপ দিয়ে তাঁর হৃদস্পন্দন চালু করার চেষ্টা চালান। কিন্তু ততক্ষনে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় হাল ছেড়ে দিয়ে পুলিশে খবর দিতে বলেন’।

গত বছর অগস্টে সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল পিঠানি, নীরজ, কেশব ও দীপেশ সাওয়ান্তকে একটানা জেরার পাশাপাশি ১৪ জু্নের ঘটনাক্রম পুননির্মাণও করে একাধিকবার। তবে গোটা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আজ পর্যন্ত কিছুই জানায়নি কেন্দ্রীয় সংস্থা। হিন্দুস্তান টাইমস

 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
শর্টলিংকঃ