কফি হাউস গানের রচয়িতার পৈতৃক ভিটায় সংগ্রহশালার দাবি

  • 15
    Shares

কলিট তালুকদার, পাবনা:

শোনো, একটি মুজিবরের থেকে, লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি, আকাশে বাতাসে ওঠে রণি। কিংবা বাঙালী হৃদয়কে তোলপাড় করে, বিবিসি জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আধুনিক বাংলা গানের তালিকায় ঠাঁই পাওয়া কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’সহ বহু কালজয়ী গানের রচয়িতা গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। আধুনিক বাংলাগানের স্বর্ণযুগের অধিকাংশ গানই তার লেখা।

৫ ডিসেম্বর উপমহাদেশের প্রখ্যাত গীতিকবি গৌরী প্রসন্ন মজুমদারের জন্মবার্ষিকী। ১৯২৫ সালের এই দিনে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরে জন্ম গ্রহন করেন এই গীতিকবি। কালের প্রবাহে ধ্বংস হয়েছে গীতিকবির পৈতৃক ভিটায়সহ সবটুকু স্মৃতিচিহ্ন। আধুনিক বাংলা গানের স্রষ্ঠা এই গীতিকবির স্মৃতি ধরে রাখতে সংগ্রহশালা গড়ে তোলার দাবী স্থানীয়দের।

বাণী আর ছন্দের অভাবনীয় মেলবন্ধনে, কখনো উত্তম সুচিত্রার ঠোঁটে,কখনো হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, শচীন দেব বর্মন কিংবা আশা ভোঁসলের কন্ঠে তার লেখা গান সহস্র বাঙালীকে আজও নিয়ে যায় স্বপ্নের দুনিয়ায়। ১৯২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় জন্ম নেয়া বরেণ্য এই গীতিকবি ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরের উদ্ভিদবিদ গিরিজাপ্রসাদ মজুমদারের ছেলে গৌরীপ্রসন্ন শৈশবে কলকাতায় চলে যান, দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধকালে ফিরে এসে ভর্তি হন পাবনার এডওয়ার্ড কলেজে। ১৯৫১ সালে ভর্তি হন কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ে। দেশবিভাগের পর ১৯৬৫ সালে স্বপরিবারে চলে যান ওপার বাংলায়। ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪-৭৫ সালে গোপালনগর মৌজায় মজুমদার এস্টেটের ৩৩ একর জমি সরকার অধিগ্রহণ করে সেখানে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে।

গোপালনগর গ্রামের বাসিন্দা ও গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের প্রতিবেশীরা জানান, ১৯৭২ সালে শেষবারের মতো পৈতৃক ভিটায় আসেন তিনি। ভারতে চলে যাওয়ার সময় তাদের বিশাল উঠোনসহ তিনতলা বাড়ি ছিল। আশির দশকে কিছু স্মৃতিচিহ্ন থাকলেও এখন কিছুই নেই। ফলে নতুন প্রজন্ম জানে না বিখ্যাত এই মানুষটির জন্ম ফরিদপুরের গোপালনগরে। স্মৃতিচিহ্ন বলতে রয়েছে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি তালগাছ আর একটি ঘাট বাঁধানো পুকুর। মূল বাড়ির ধ্বংসাবশেষে এখন জঙ্গল আর ময়লার স্তুপ।

ফরিদপুর পৌর মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ বলেন, ফরিদপুর পৌরসভার একটি সড়ক গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের নামে করা হবে। যাতে তার নাম সবার মাঝে ছড়িয়ে যায়।

ফরিদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাপ হোসেন গোলাম বলেন, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিককর্মী, প্রশাসন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের স্মরণে একটি ভাস্কর্য, অথবা একটি স্মৃতি পাঠাগার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, আমরা চেষ্টা করবো সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এখানে গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের স্মৃতি ধরে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। তিনি পাবনার গর্ব, ইতিহাসের এই অংশটুকু আমাদের ধরে রাখার দরকার।

জন্মভূমি ছেড়ে ওপার বাংলায় চলে গেলেও মাতৃভূমির প্রতি গৌরী প্রসন্নের ভালোবাসা এতটুকুও কমতি ছিলনা। তাইতো মহান মুক্তিযুদ্ধে হাজারো মুক্তিযোদ্ধাকে উজ্জীবীত করা জন্য মাগো ভাবনা কেন শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি এই গান তারই প্রমাণ। প্রখ্যাত এই সংগীতযোদ্ধার স্মৃতি ধরে রাখতে উদ্যোগ গ্রহণের দাবী স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের।

 


  • 15
    Shares
শর্টলিংকঃ