বগুড়ায় মন্দির চত্বরে যুবকে কুপিয়ে হত্যা

  • 2
    Shares

ইউএনভি ডেস্ক:

বগুড়া শহরের একটি মন্দিরের চত্বরে এক যুবকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল রোববার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে বগুড়া শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবগ্রামহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুর্গাপূজা দেখতে আসা ওই যুবককে হত্যা করেছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

নিহত ওই যুবকের নাম সম্রাট দাস (২৬)। তাঁর বাবার নাম কালীপদ দাস। সুব্রত সাবগ্রাম বন্দর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ২০১৫ সালের যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মানিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

বগুড়া শহরের নারুলী ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক জামিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হামলাকারীদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে হামলায় নিহত সম্রাটের বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মানিক হত্যাসহ তিন থেকে চারটি মামলা রয়েছে। পুলিশ গতকাল রাতে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

সাবগ্রাম দুর্গামন্দির কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, গতকাল রাতে সাবগ্রাম মন্দিরে প্রতিমা দর্শন শেষে বের হচ্ছিলেন সম্রাট। কিন্তু পূজামণ্ডপ থেকে বের হতে না হতেই তাঁর ওপর হামলা করেন আগে থেকে সেখানে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা। প্রাণ বাঁচাতে সম্রাট এ সময় মন্দির চত্বরে আশ্রয় নেন।

দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বের করে কুপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সম্রাট সাবগ্রাম এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী জুয়েল দাস ওরফে হাঁড়ি জুয়েলের ভাই। জুয়েল কিছুদিন আগে অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর কারাগারে রয়েছেন। ভাইয়ের অবর্তমানে সাবগ্রাম এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্রাট।

সাবগ্রাম এলাকার দুজন বাসিন্দা বলেন, সম্রাট সাবগ্রাম এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী জুয়েল দাস ওরফে হাঁড়ি জুয়েলের ভাই। জুয়েল কিছুদিন আগে অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর কারাগারে রয়েছেন। ভাইয়ের অবর্তমানে সাবগ্রাম এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্রাট। এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষ আরেকটি গ্রুপের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ জুন বগুড়া পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য এবং সাবগ্রাম বন্দর যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি মনিরুজ্জামান মানিককে সাবগ্রাম হাটে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি সম্রাট।

মনিরুজ্জামান মানিক হত্যা মামলার আরেক আসামি মোহাম্মদ শাকিলকে গত ১২ জুন বগুড়া শহরের নারুলী আকাশতারা এলাকায় দিনদুপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শাকিল শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মনিরুজ্জামান মানিক ছাড়াও ২০০৯ সালে চেলোপাড়া এলাকায় রাব্বী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি ছিলেন শাকিল।

এ হত্যাকাণ্ডের দুদিনের মাথায় ১৪ জুন দিনদুপুরে শহরের আকাশতারা এলাকায় বগুড়া জুট মিলস লিমিটেডের সামনে প্রকাশ্যে গলা কেটে সাবগ্রাম বন্দর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেবকে (৩৫) হত্যা করা হয়। নিহত যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মানিকের অন্যতম সহযোগী ছিলেন আবু তালেব।


  • 2
    Shares
শর্টলিংকঃ