বাগমারায় ‘সোনার হরিণ’ নিয়ে ঘুরছে আলোর ফেরিওয়ালা

  • 133
    Shares

বাগমারা প্রতিনিধি:

এক সময় বিদ্যুৎ ছিল সোনার হরিণ। রাজশাহীর বাগমারায় শেষের পথে আলোর ফেরিওয়ালা ভ্রাম্যমান বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রম। শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম শুরু করে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগমারা জোনাল অফিস।

 

আলোর ফেরিওয়ালা ভ্রাম্যমান বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রম

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাগমারায় এক লক্ষ বাড়িতে সংযোগ প্রদানের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা জুড়ে ৯৬ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। শতভাগের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে বাগমারা। এদিকে গ্রামে গ্রামে গিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে খোঁজ নেয়া হচ্ছে কোন পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের বাহিরে রয়েছে কিনা।

সেই সাথে চলমান রয়েছে আলোর ফেরিওয়ালা কার্যক্রম। ভ্যানে বিদ্যুৎ সংযোগের সরঞ্জাম নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে হাজির হয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গ্রাহকের আবেদন পাওয়া মাত্র ফি নিয়ে দেওয়া হচ্ছে সংযোগ। এ যেন এক স্বপ্ন, যা মানুষ আগে কখনও ভাবেনি।

এক সময়ের বিদ্যুৎ ছিল সোনার হরিণ। আর বর্তমানে বিদ্যুৎ বাড়িতে এসে দিয়ে যাচ্ছে মাত্র ৫ মিনিটে। ভ্যানগাড়িতে আছে মিটার, বিদ্যুতের তারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। আছেন দু’জন লাইনম্যান ও একজন ওয়্যারিং পরিদর্শক।

প্রতিদিন সকাল থেকে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন তারা। গ্রাহক বিদ্যুৎ নিতে চাইলে মাত্র পাঁচ মিনিটেই পাচ্ছেন বিদ্যুৎ সংযোগ। ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ মাধ্যমে কোন হয়রানি এবং বাড়তি অর্থ খরচ না করে পেয়ে যাচ্ছেন বিদ্যুৎ সংযোগ।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১এর উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে আলোর ফেরিওয়ালা ভ্যান। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু সন্ধ্যা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে ১৬টি ইউনিয়ন আর ২টি পৌরসভায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভ্যানে মিটার, তার থেকে শুরু করে সব ধরনের সরঞ্জাম থাকছে। যে এলাকার বাসাবাড়িতে এখনও বিদ্যুৎ নেই, সেই এলাকায় বেশি যাচ্ছেন, সেখানে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। যারা নতুন সংযোগ নিতে আগ্রহী, তাদের সদস্য ফি বাবদ ৫০ টাকা, আর জামানত হিসেবে ৪০০ টাকা (বাণিজ্যিক হলে ৮০০) জমা দিতে হচ্ছে।

আলোর ফেরিওয়ালাদের কাছে টাকা জমা নেয়ার রসিদ বই থাকছে, তারা সেখানে বসেই টাকা জমা করছেন। এরপর ওয়্যারিং পরিদর্শক ওয়্যারিং যাচাই করে ঠিক আছে জানালেই সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ায় মাত্র পাঁচ-ছয় মিনিট সময় লাগছে। গ্রাহককে অফিসে আসতে হচ্ছে না, আবেদনের পাঁচ মিনিটেই পাচ্ছেন সংযোগ।
এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের লোকজন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কোন সমস্যা থাকলে সেটাও দ্রুত ঠিক করে নিতে পারছেন।

সোমবার বাগমারা জোনাল অফিস প্রাঙ্গণে ভ্রাম্যমান বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যক্রম আলোর ফেরিওয়ালার খোঁজ খবর নেন সদ্য যোগদানকৃত নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের ডিজিএম সুলতান উদ্দীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সাবেক সভাপতি এস.এম.শওকত হোসেন নান্নু, বাগমারা জোনাল অফিসের ইসি শরিফুল ইসলাম, জুনিয়র প্রকৌশলী জয়েন উদ্দীন, সদস্য সেবা কো-অর্ডিনেটর আকরাম হোসেন, ওয়ারিং পরিদর্শক উত্তম কুমার শীল, লাইনম্যান গ্রেড-২ ইসমাইল হোসেন, এলসিএল-১ সুজন কুমার রায়, এস.জি নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে বাগমারায় “আলোর ফেরিওয়ালা” ভ্রাম্যমান বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেছিলেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে সংসদ কার্যপরিচালনা কমিটির প্যানেল স্পিকার ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক।

বাগমারা জোনাল অফিসের ডিজিএম সুলতান উদ্দীন জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এই প্রতিপাদ্যকে বাস্তবায়ন করতে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে বাগমারায় শতভাগ বিদ্যুতের লক্ষ্যে এই আলোর ফেরিওয়ালার কার্যক্রম পরিচালিত হ”েছ।

 


  • 133
    Shares
শর্টলিংকঃ