বাঘায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভ

  • 2
    Shares

বাঘা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাঠে জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও মনোনয়ন বঞ্চিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের বর্তমানে মাঠে দুই-একজন ব্যতিত কাউকে দেখা যাচ্ছেনা। মনোনেয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের বাড়িতে ও ব্যক্তিগত অফিসে এসে সাধারণ ভোটাররা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

 

 

এ বিষয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত মনিগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনে কোন অনিয়ন-দূর্নীতি করিনি। নিজের টাকা দিয়ে মানুষের পাশে থেকে উপকার করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

সাধারণ মানুষ আমাকে এতো আপন করে নিয়েছেন, তা মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পরে হাজার হাজার মানুষ আমার বাড়িতে ও অফিসে ভিড় করে। মনোনয়ন না পাওয়ার কারণ জানতে চান। এরমধ্যে অনেকে আবেগে আফ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ বিষয়টি আমার কষ্ট থাকলেও আমি সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে পেরেছি এবং তাদের ভালবাসায় মুগ্ধ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে ভালো মনে করেছেন তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমার দুঃখ কষ্ট থাকা স্বাভাবিক।

তারপরও আমি মনোনয়ন জমা দিয়েছি। দলীয় সিদ্ধান্তে তা উঠিয়ে নিব। আমি নৌকার পক্ষে আছি। আমি ১৯৯৫ সাল থেকে আ.লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়ি। ২০০১ সালে মনিগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর বলিহার ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। ২০১৪ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে মনিগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। তারপর থেকে নিজের ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহয়িার আলম এমপির সহযোগিতায় ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

অপর দিকে বাঘা উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের মনোনয়ন বঞ্চিত আবদুর রহমান বলেন, ইউনিয়নের কিছু অংশ বাঘা পৌরসভার মধ্যে যাওয়ার পর সাবেক মেয়র আক্কাস আলী ২০০৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাকে উপস্থাপনা করেন পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আগামী দিনের চেয়ারম্যান প্রার্থী। সেই থেকে আমার মধ্যে ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর হাত ধরে কাজ করে যাচ্ছি।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা চেষ্টা করেছিলাম। পরে ২০১৬ সালে উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমি চেয়ারম্যান হয়। সেই সুবাদে আমার বাবার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্টানে আর্থিক সহযোগিতা করে আমাকে পরিচিত করে তুলে। কিন্তু বাবা ২০১৪ সালে পরলোক গমন করেন। বাবার সেই স্বপ্নটা পূরণ করতে না পেয়ে অনেক কষ্ট পেয়েছি। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নয় আমি।

গড়গড়ি ইউনিয়নের মনোনয়ন বঞ্চিত উপজেলা আ.লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জুলফিকার আলী বলেন, আমি এ ইউনিয়নে দলীয়ভাবে যে উন্নয়ন করেছি। তাতে আমার মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিল। আমি মাঠে প্রায় ১৪ বছর থেকে কাজ করছি। এলাকায় উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্টানে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। তৃনমুলের মানুষ আমাকে চাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমি মাঠে আছি। এছাড়া সীমানা নির্ধারন নিয়ে যে মামলা ছিল। সে মামলাগুলো নিস্পত্তির জন্য উপজেলায় একটি আহবায়ক কমিটি গঠর করা হয়েছিল। সেই কমিটির আমি একজন সদস্য ছিলাম। অনেক চেষ্টার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতায় মামলাগুলো নিস্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আজ নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু আমি আ.লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত।

এদিকে উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বাজুবাঘা ইউনিয়নের আরেক মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী রফিজ উদ্দিন বলেন, দলীয় নেতাদের খুশি করতে না পারায় মনোনয়ন পায়নি। তবে জনগণ আমার সাথে আছে। আমি এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আছি। তবে আমাকে অনেক নেতা প্রার্থীতা প্রত্যাহর করে নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমি দীর্ঘদিন থেকে থেকে আ.লীগের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

মনিগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি কাউছার হোসেন বলেন, মাঠে যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তারপরও দলীয়ভাবে যাদের মনোননয়ন দেয়া হয়েছে, তাদের বিজয়ী করার চেষ্টা করবো।

গড়গড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি গোলাম মওলা বলেন, যারা মাঠে কাজ করছে, তাদের বাদ দিয়ে কিভাবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে জানিনা। তবে যাদের মনোনয়ন দিয়েছেন তাদের পক্ষে আছি।

উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, মাঠ জরিপ করে চার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা জেলায় পাঠানো হয়। জেলা পরবর্তীতে কেন্দ্রে পাঠায়। সেখান থেকে যাছাই-বাছাই করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এখানে স্থানীয় নেতাদের কোন করনীয় নেই।

এ দিকে আ.লীগের চারজন প্রার্থী মনোনয়ন পেয়ে নিজ নিজ ইউনিয়নে গণসংযোগ করছেন।
অপর দিকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফকরুল হাসান বাবুল বলেন, মনিগ্রাম ইউনিয়নের মজিবর রহমান জুয়েলকে ও পাকুড়িয়ানে ইউনিয়নে ফকরুল হাসান বাবুলকে বিএনপি থেকে স্থানীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বাজুবাঘা ও গড়গড়ি ইউনিয়নে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে।
চারটি ইউনিয়নের ৩৪ জন চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য পদে ১৮৯ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৫ জনসহ মোট ২৮৮ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে।

৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-বাজুবাঘা ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমান, বিদ্রোহী প্রার্থী রফিজ উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, হাসমত আলী, দুলাল হোসেন, জিয়াউর রহমান, সাহার আলী। বিএনপি’র প্রার্থী ফিরোজ আহম্মেদ, নজরুল ইসলাম, নওশাদ আলী, আসলাম মালিথা, আসাদুজ্জামান। স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএমানিক। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ১৩ জন, সাধারণ আসনে ৩৭ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ১৪ জন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটর সংখ্যা ১০ হাজার ৭৩৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটর ৫ হাজার ৩৩৬ ও নারী ভোটার ৫ হাজার ৪০২ জন।

গড়গড়ি ইউনিয়নে চেয়াম্যান পদে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি। বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাজামাল সরকার, জুলফিকার আলী, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল্লা আল মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম। বিএনপি’র প্রার্থীরা হলেন-জাহিদুল ইসলাম স্বপন, এমদাদুল হক, আবুল কালাম আজাদ, মাসুদ করিম টিপু। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ১১ জন, সাধারন আসনে ৪৯ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ১৭ জন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটর সংখ্যা ১২ হাজার ২১২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটর ৬ হাজার ১৭৯ ও নারী ভোটার ৬ হাজার ৩৩ জন।

পাকুড়িয়া ইউনিয়নে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম সরকার। বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুর রহমান ও শামিউল আলম। বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু। এ ইউনিয় নেচেয়ারম্যান ৪ জন, সাধারণ আসনে ৪৭ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ১৪ জন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৬৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটর ৭ হাজার ৭৯৫ ও নারী ভোটার ৭ হাজার ৫৭১ জন।

মনিগ্রাম ইউনিয়নে আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী মনিগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী জিল্লুর রহমান, কাবাতুল্লাহ, মাইনুল হক, আয়নাল হক। বিএনপি’র একমাত্র প্রার্থী মুজিবুর রহমান। এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ৬ জন, সাধারণ আসনে ৫৬ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ২৩ জন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটর সংখ্যা ২৩ হাজার ৪০৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটর ১১ হাজার ৮৪৫ ও নারী ভোটার ১১ হাজার ৫৫৮ জন।

বাঘা উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারি রিটারিং অফিসার মজিবুল আলম জানান, বাজুবাঘা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া ও মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৩ সেপ্টম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ ৪টি ইউনিয়নে আগামী ১৪ অক্টোবর নির্বাচন। ২২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে।

 


  • 2
    Shares
শর্টলিংকঃ