সঙ্গীর খোঁজে ময়ূরের ৬০০ মাইল পাড়ি

  • 21
    Shares

ইউএনভি ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের জনবহুল রাজ্য ইন্ডিয়ানা। সম্প্রতি ফ্রাঙ্ক নামে একটি ময়ূর এ রাজ্য জুড়ে ঘুরে বেড়ায়। আর তারই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ফ্রাঙ্কলিন টাউনশিপ থেকে যাত্রা শুরু করে ময়ূরটি। তারপর ৬০০ মাইল ঘুরে বেড়ানোর পর ইন্ডিয়ানাপোলিসের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় এসে ধরা পড়ে ময়ূরটি। ইন্ডিয়ানা অ্যানিমেল কেয়ার সার্ভিসের লোকজন দুই মাস ফ্রাঙ্কের পেছনে ছুটেছেন। কিন্তু ময়ূরটি রাজ্যময় ঘুরে বেড়িয়েছে কেন? এমন প্রশ্নই সবার মনে। জনশ্রুতি আছে, ময়ূরটি আসলে তার সঙ্গী খুঁজে বেড়াচ্ছিল।

ফ্রাঙ্ককে পাওয়ার পর ইন্ডিয়ানা অ্যানিমেল কেয়ার সার্ভিস ফ্রাঙ্কের একটি ছবি তাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করে লিখেন—‘‘না, আপনি ভুল দেখছেন না। এটিই ফ্রাঙ্ক ময়ূর এবং সে এখন আমাদের এখানে সুরক্ষিত আছে। টুইন আয়ার নেবারহুডের বাসিন্দাকে ধন্যবাদ, যেখানে ফ্রাঙ্ককে নিরাপদে ধরা গিয়েছিল এবং সেবা সংস্থা তাকে নিরাপদে নিয়ে আসে। আমরা তাকে ‘অলিভিয়া ওয়েঙ্কিং একরস ফার্ম’ নামক এক অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়ার সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। সেখানে একটি ময়ূরী তার জন্য অপেক্ষা করছে, যাতে সে ভালোবাসার কোনো সঙ্গী খুঁজে পায়।”

পোস্টটির নীচে অলিভিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান লেখেন—‘আমরা ফ্রাঙ্ককে ওয়েঙ্কিং একরস ফার্মে স্বাগত জানাতে অধীর হয়ে অপেক্ষা করছি।’

ফ্রাঙ্ক দুই মাস আগে ফ্রাঙ্কলিন টাউনশিপ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ময়ূরটির হদিস পেতে মিশেল ইভানস নামে এক ব্যক্তি প্রথমে ফেসবুকে একটি গ্রুপ খুলেন শহরের বাসিন্দাদের সাহায্য কামনা করে। ‘ফক্স-৫৯’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিশেল জানান, টাউনশিপে ময়ূরদের একটি খামার তৈরি করা হয়েছিল ৪০-৫০ বছর আগে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খামারটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাবার পর ময়ূরগুলো সেখানে আটকে পড়ে। পরবর্তীতে বেশ কিছু ময়ূর পালিয়ে যায়। সেই ময়ূরগুলোর সন্ধানেই তিনি ‘ফ্রাঙ্কলিন টাউনশিপের ময়ূর কোথায়?’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলেন। ফেসবুক গ্রুপটিতে কিছুদিন পর পর ছবি এসে জমা হতে থাকে। ময়ূরটিকে যে যেখানে দেখেছে সেই ছবি তুলে পাঠাতে থাকে। যা একটা নকশা তৈরিতে সাহায্য করে। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে ক্যালেব ওয়াল্ডেন ময়ূরটির যাত্রাপথের মানচিত্র তৈরী করে। এতে ফ্রাঙ্ককে অনুসন্ধান করা সহজ হয়।

তবে কেউ-ই নিশ্চিত ছিল না এটাই ফ্রাঙ্ক। এমনকি ফ্রাঙ্ক কি বন্য ময়ূর নাকি কারো পোষা ময়ূর সে ব্যাপারেও কেউ নিশ্চিত ছিল না। শহরটিতে অনেক বাসিন্দাই আছেন যাদের পোষা ময়ূর-ময়ূরী আছে। ময়ূরদের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—তারা পাঁচ মাইল দূরে থেকেও অন্য ময়ূরের ডাক শুনতে পায়। ফ্রাঙ্কও হয়তো শহরে অন্য ময়ূরদের ডাক শুনেই ঘুড়ে বেড়াচ্ছিল।

‘ইন্ডিয়ানাপোলিস অ্যানিমেল কেয়ার অ্যান্ড কন্ট্রোল’ অলিভিয়ার অভয়ারণ্যের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, তারা একটি ময়ূরকে ধরতে পেরেছে যা সারা ইন্ডিতে ঘুড়ে বেড়াচ্ছিল। ফ্রাঙ্কের মালিক খুঁজে না পাওয়ায় তারা ফ্রাঙ্ককে অলিভিয়ার অভয়ারণ্যে দিতে চায়। কিন্তু ফ্রাঙ্ক এরই মধ্যে তার দুঃসাহসিক অভিযানের মধ্য দিয়ে অসংখ্য ভক্ত তৈরি করেছে। ফ্রাঙ্ক ধরা পড়ার কারণে কিছু মানুষ দুঃখ প্রকাশও করেছেন।

তিনি আরো জানান, ময়ূরের আদি আবাসস্থল এশিয়া। ময়ূর ইন্ডিয়ানার স্থানীয় পাখি না। ফলে ইন্ডিয়ানাতে তারা বন্য না, পোষা প্রাণী। সেখানে তাদের একা একা ঘুরে বেঁচে থাকা কঠিন। একটা ময়ূর তখনই বাইরে ঘুরে-বেড়ায় যখন সে সঙ্গী খুঁজে।

অলিভিয়ার প্রধান ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেছেন—কয়েক সপ্তাহ আগে ওয়েঙ্কিং একরসে আমরা রাইম নামের এক সঙ্গীহীন ময়ূরী নিয়ে আসি। ইতোমধ্যে আমরা রাইমের জন্য একটা বড় খাঁচা তৈরির পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের মাঝে ফ্রাঙ্কও আছে। তাই আমরা ওদের জন্য একটা বড় পক্ষিশালা তৈরীর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওয়েঙ্কিং একরস একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। এখন আপনারা ফ্রাঙ্কের পক্ষিশালা তৈরিতে আমাদের আর্থিক সহায়তা করতে পারেন।

স্থানীয় লোকজন বলছেন—ফ্রাঙ্ক তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করবে ময়ূরীর সঙ্গে। তারা দুজন একত্র হতেই হয়তো স্বর্গ থেকে এসেছিল, দেখাটা হতে যাচ্ছে দীর্ঘ বিরতির পর!

Print Friendly, PDF & Email

  • 21
    Shares
শর্টলিংকঃ