সাংবাদিকরা কেন টার্গেট?

  • 36
    Shares

যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের রক্তের গরম একটু বেশিই থাকে। দলের শীর্ষ-পাতি নেতাদের রাজপথের তর্জন-গর্জন, অলিতে- গলিতে মিছিল থেকে শুরু করে, বউয়েরর বাচ্চা হওয়া, বউয়ের দাদী মারা যাওয়ার খবর প্রচার করে গণমাধ্যম। এদিকে রাজপথে নামতে না পেরে অচল – অক্ষম বিরোধী দল গোপনে রেস্টুরেন্ট, অডিটোরিয়াম, খালে- বিলে ঝটিকা মিছিলের যে আন্দোলন করে যাচ্ছেন তাও সাংবাদিকদের বদৌলতে জনগণের সামনে আসে।

এককথায় ঘরের কোন থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন, বিরোধীরা যা করেন সবই গণমাধ্যমে স্থান পায়। একবার ভেবেছেন সাংবাদিকরা না এগিয়ে আসলে আপনাদের নেতাগিরি, ক্ষমতার দাপট কোথায় গিয়ে পোঁছাতো?

কিছু গৃহপালিত ফ্যামিলি সাংবাদিক নেতাদের কাছে কাছে থাকেন। নেতার বার্থডে, আনন্দ ভ্রমন, ছেলের জন্মদিন, মুসলমানি ইত্যাদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ নিউজ। কিন্তু সমস্যা একটাই নেতাদের মনমতো নিউজ সব সাংবাদিকরা করেন না। তাই নিউজ যদি নেতাদেও পছন্দ হয় (বিরুদ্ধে না যায়) তাহলে ফুলেল শুভেচ্ছা, জামাই আদর আর বিরুদ্ধে গেলেই মার শালারে! আপনাদের রাজনীতির ব্যবসায় লাভ- লোকসান হিসেব কষে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে এটা সাংবাদিকতার সূত্রে আছে?

যে সৈনিকরা আপনাদের টিকিয়ে রেখেছে তাদের উপর স্পটে উদ্দেশ্য করে হামলা, লাঞ্ছনা, প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। সাধারণ জনগণ সাংবাদিকদেও উপর হামলা করেন না। বিএনপি জামাত এখন সাবেক। তারাও অতীতে হামলা করেছেন। তারা এখন বেঁচে আছেন টেলিভিশন আর পত্রিকায়, মাঠে নেই।

বাগমারা উপজেলায় তাহেরপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক কাউন্সিলে দু-গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় পলিশের সামনেই সময় টিভির রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ও রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান পাপ্পু ভাইকে লাঞ্ছিত ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে। কিছুদিন আগে যুগান্তরের সাংবাদিক তানজিম ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, কালের কন্ঠ রাজশাহী ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম রফিক ভাইয়ের রক্তের দাগ এখোনো মুছেনি। এভাবে আর কতদিন???

আপনারা রাজনীতিকরা রুটি-রুজির জন্য রাজপথে, তেমনি সাংবাদিকরাও। সাংবাদিকরা পেটের দায়ে, জাতির প্রতি ভালবাসার টানে সাংবাদিকতা করে জীবিকা অর্জন করেন। আপনারা তাদের ঘাড়ে ভর করে টিঁকে আছেন। দলকানা সাংবাদিক রয়েছে, থাকেও আজীবন। কিন্তু, এর বাইরেও সাংবাদিকদের একটা বৃহৎ অংশ আছে যারা দু- পক্ষেরই খবর টিকঠাক পরিবেশন করেন। এটা নেতাদের মস্তিস্কে গেঁথে রাখা প্রয়োজন।

আপনাদের রাজনীতি যদি সাংবাদিক পেটানো রাজনীতি হয় তাহলে বলব আপনারা জাতিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। সাংবাদিকরা মানুষ, তাদের ভুল হতেই পারে। প্রতিবাদ জানানোর অন্য মাধ্যম রয়েছে। আপনারা মামলা করে, প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিকার করতে পারেন। রাজনীতি যদি সাংবাদিক পিটিয়ে শক্তি প্রদর্শন হয়, তাহলে বলতে হয় আপনার রাজনীতি হটকারিতায় ডুবে গেছে।

এই ভয়াবহ সাংবাদিক পেটানো সংস্কৃতি থেকে কিভাবে উত্তরণ পাওয়া যাবে সে পথ পুলিশ- প্রশাসন, আপনাদের এবং আমাদের সবাইকে খুঁজতে হবে।

লেখকঃ মেহেদী হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, ইউনিভার্সাল টুয়েন্টিফোর নিউজ। সদস্য, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি।


  • 36
    Shares
শর্টলিংকঃ