প্লট বাণিজ্যের অভিযোগে আরডিএ’র ১০জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • 51
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্লট বাণিজ্যের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। বুধবার দুপুরে  দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা দায়ের করেন সহকারী পরিচালক আল-আমিন।

মামলার আসামীরা হলেন, আরডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার (৬২), সাবেক এস্টেট অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত) আবু বকর সিদ্দিক (৬৫), হিসাবরক্ষক রুস্তম আলী,উচ্চমান সহকারী(সাবেক নিন্মমান সহকারী) মোস্তাক আহমেদ, শিরোইল এলাকার মৃত গোলাম রসুলের ছেলে এনামুল হক (৬০), আবু রায়হান শোয়েব আহমেদ সিদ্দিকী (৫৪), ডা. এস.এম. খোদেজা নাহার বেগম, ডা. মোঃ রবিউল ইসলাম স্বপন,এ্যাসথেটিক ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিঃ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাহফুজুল হক ও মোঃ খায়রুল আলম।

মামলায় উল্লেখ্য করা হয়, অসৎ উদ্দেশ্যে পারস্পারিক সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গ করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অপরকে লাভবান করে জালিয়াতির মাধ্যমে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘনপূর্বক এবং সাধারণ সভায় আলোচনা না হওয়া সত্ত্বেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে কার্যবিবরণীতে উল্লেখপূর্বক অবৈধভাবে রাজশাহী উন্নয়ন র্কর্তৃপক্ষের আওতাধীন চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার ৮ (আট) টি বাণিজ্যিক প্লটে সর্বমোট ৫০ দশমিক ৬৭ কাঠা জমি অবৈধভাবে বরাদ্দ প্রদান করে দন্ডবিধির ৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আরডিএ-তে ১/২০০৬ নং সভায় উপস্থিত সদস্য সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ মুনির হোসেন, রাসিকের সাবেক সচিব কোরবান আলী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী (অব:) মোঃ আব্দুলাহ অনুসন্ধাকালে বক্তব্যে জানান যে, আরডিএ এর সভা নং-০১/২০০৬ এ চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার উক্ত ৮ (আট) টি বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত কোন এজেন্ডা ছিল না এবং এ বিষয়ে উক্ত সভায় কোন আলোচনাও হয়নি।

 

মোহাম্মদ মুনির হোসেন জানান, ০২-০১-২০০৬ খ্রি. তারিখ সভায় চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার উক্ত ৮ (আট) টি বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দের বিষয় একদম আলোচনাই হয়নি, কিন্তু উক্ত বিষয় নিয়ম বহির্ভূতভাবে সভার কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তখন তিনি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানান এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে আপত্তি জানাতে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে ২০০৬ সালের ২০ মার্চ আপত্তি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। অনুসন্ধানকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাজশাহী হতে স্মারক নং ০৫.৪৩.৮১০০.০১৩.০০৯.০০৯.(খন্ড-২).২০১৬-১০০৩; তারিখ-০৫-০৯-২০১৬ খ্রি. মূলে উক্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত ছায়ালিপি সংগ্রহপূর্বক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ০২-০১-২০০৬ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত আরডিএ এর সাধারণ সভা নং-০১/২০০৬ এ চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার ৮টি বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দের বিষয়ে কোন এজেন্ডা ছিল না এবং এ বিষয়ে কোন আলোচনাও হয়নি। কিন্তু চেয়ারম্যান জনাব তপন চন্দ্র মজুমদার অন্যান্যদের সাথে পারস্পারিক সহায়তায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে ০২-০১-২০০৬ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত আরডিএ এর সাধারণ সভা নং-০১/২০০৬ এ চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার ৮টি বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দের বিষয়ে কোন এজেন্ডা না থাকা সত্ত্বেও এবং এ বিষয়ে কোন আলোচনা না হওয়া সত্ত্বেও জালিয়াতির মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে গোপনে প্রাপ্ত ৮ টি দরপত্রে উদ্ধৃত দর অনুমোদন করেন এবং দরদাতাদের অনুকূলে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বরাদ্দপত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সর্বমোট ৫০ দশমিক ৬৭ কাঠা জমি অবৈধভাবে বরাদ্দ প্রদান করেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অনুসন্ধানকালে দেখা যায় যে, আবুল কাশেম আকন্দ, এনামুল হক, আবু রায়হান শোয়েব আহমেদ সিদ্দিকী, ডাঃ এস. এম. খোদেজা নাহার বেগম, ডাঃ মোঃ রবিউল ইসলাম স্বপন, মাহফুজুল হক ও খায়রুল আলম অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ উপায়ে আরডিএ এর কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সাথে যোগসাজসে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যান্যদের লাভবান করে জালিয়াতির মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে গোপনে দরপত্র দাখিল করে রাজশাহী উন্নয়ন র্কর্তৃপক্ষের আওতাধীন চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার উক্ত ৮ (আট) টি বাণিজ্যিক প্লটে সর্বমোট ৫০ দশমিক ৬৭ কাঠা জমি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বরাদ্দ গ্রহণ করেন। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে অনুসন্ধানকালে জানা যায় আবুল কাশেম আকন্দ ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট ইন্তেকাল করেছেন।


  • 51
    Shares
শর্টলিংকঃ