রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

  • 39
    Shares

বিশেষ প্রতিবেদক :

রাজশাহীতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের। তাই এরইমধ্যে দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপর্যয় ঠেকাতে রাজশাহীকে লকডাউনের আবারো তাগিদ দেয়া হয়েছে।  তবে এ নিয়ে কোনো ধরনের আতঙ্ক নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা ও সব ধরনের জনসমাগম পরিহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

করোনা আতঙ্ক গ্রাস করেছে কমবেশি সবাইকেই। এরইমধ্যে ১০দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে এর কয়েকদিন আগে থেকেই নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতে বের হচ্ছেন না বেশির ভাগ মানুষ। এ অবস্থায় প্রতিদিন রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা সন্দেহভাজনের সংখ্যা। পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে-এমন আশঙ্কায় দুটি প্রাইভেট হাসপাতালও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য ইউনিভার্সাল২৪নিউজকে বলেন, আমরা এখন ভীত ও সন্ত্রস্ত। বিশ্বব্যাপি বিশেষ করে ইতালি যে বিপর্যয় ঘটেছে তা আমাদের দুশ্চিন্তায় বাড়িয়েছে। আমরা এখনও পুরোপুরি সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে পারি নি। এখনো গণপরিবহনে মানুষ চলাফেরা করছে। ট্রেনেও বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামে ফিরছে। স্টেশনগুলোতে উপচেপড়া ভীড়।  তাই আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি বয়াবহ উঠতে পারে। এজন্য আমরা রাজশাহী নগরীর বেসরকারী হাসপাতাল সিডিএম ও শ্যামপুরে ক্যান্সার শেল্টারকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। এখানে সন্দেহভাজন করোনা সংক্রমণ রোগীদের নেয়া হবে। এ মুহূর্তে আমরা রাজশাহীতে অন্তত ২০০বেড রেডি করছি।

ডা. গোপেনন্দ্রনাথ আচার্য্য

গেল দু’দিনের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বেড়েছে বলেও জানান ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য। তিনি আবারো বলেছেন, এখনই রাজশাহীকে লকডাউন ঘোষণা করা না হলে ইতালির মতই বিপর্যয় ঘটতে পারে। এ জন্য আমরা বিভাগীয় কমিশনারকেও লকডাউনের পরামর্শ দিয়েছি।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, গত ২৪ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা হতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এই বিভাগে নতুন ৪৯১জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে।এরমধ্যে রাজশাহীতে ১৩৫জন, চাাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬১জন, নাটোরে ৫৭জন জয়পুরহাটে ৫০জন, বগুড়ায় ৫৩জন, সিরাজগঞ্জে ৭জন ও পাবনায় ৫৭জন। তবে  এই সময়ের মধ্যে নাটোরে নতুন কোনো ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় নি।

জেলা প্রশাসক হমিদুল হক

এদিকে, করোনা ইস্যুতে খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউন হলেও রাজশাহীতে অন্তত তিন মাসের খাদ্য মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে ব্যবসায়ীদের। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন তাদেরকেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


  • 39
    Shares
শর্টলিংকঃ