রোদ বৃষ্টির খেলা, কপি চাষীদের মাথায় হাত!

  • 43
    Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শীতকালীন সবজি চাষে মাঠে নেমে পড়েছে কৃষক। চাষ করছেন বাধাকপি, ফুলকপি, বেগুন,মূলা ইত্যাদি সবজি। সেইসাথে ভারী বর্ষনে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে চাষীদের। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির পানিতে জমি ভেজা থাকার কারণে নেতিয়ে পড়েছে অধিকাংশ চারাগাছ। চারাগছের দিকে তাকিয়ে মাথায় হাত কৃষকের, লোকসান হবে হাজার হাজার টাকা।

গতকাল শুক্রবার রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা, মুরারিপুর, মধুপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কপি চাষে আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
মুরারিপুর গ্রামের কৃষক রিপন আলী আলী বলেন, আমরা প্রতিবছরই কপি চাষ করি। লাভ হয় ভালো। এবার বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ায় জমিতে পানি জমে গেছে। পানি বেশির কারণে চারাগাছ ঢলে পড়ে আবার বৃষ্টির পর রোদ হলে নেতিয়ে পড়ে মারা যায়। দু-এক দিনের মধ্যে বেশিরভাগ কপির চারা মারা যাবে। বিঘাপ্রতি লোকসান হবে ৩২ খেকে ৩৫ হাজার টাকা।

ইয়াছিন আলী কপি চাষ করেছেন সাড়ে তিন বিঘা জমিতে। এখন আছেন শঙ্কায়। বেশিরভাগ চারার বাঁচার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, এখানে পরামর্শ দেয়ার জন্য কেউই আসেনা। আমরা কি সার দেব, কোন জমিতে বর্ষা মৌসুমে আবাদ করা যাবে, কোন ঔষধ- কীটনাশক প্রয়োগ করব ? কোনদিনই তারা এখানে আসেননা। আমরা না জেনে নীচু জমিতে আবাদ করার কারণে এ লোকসানের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

আবার দেখা যায়, উঁচু জমির ফসলের অগ্রগতি বেশ ভালো। কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তা ছাড়া কীভাবে তারা আবাদ করে জানতে চাইলে কৃষক বায়দুল হক জানান, আমাদের জমিতে কোন সমস্যা দেখা দিলে আমরা ফসলের পাতা, ডাল আবার কখোনো কখোনো সম্পূর্ণ গাছ উপড়ে নিয়ে মধুপুর বাজারে যাই। সেখানে সারের দোকানদার দেখে একটা বোতল অথবা পাউডার দেয়। সেটা নিয়ে জমিতে দিলেই ভালো হয়ে যায়। আবার কোনো কোনা সময় ভালো হয় না। কোন কর্মকর্তা এখানে আসেন না। আসে ঐষধ কোম্পানির লোক।

কৃষি অধিদপ্তরের ঢাকাস্থ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, আমাদের এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া আছে। তারা ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সেবা এবং পরামর্শ দিয়ে থাকে। তারা নিজে গিয়েও কৃষকের সমস্যার কথা শুনে পরামর্শ দেয়। নীচু জমির পানি নিস্কাষন ব্যবস্থা ভালো করতে হবে। সেইসাথে খেয়াল রাখতে হবে পানি জমতে পারে এমন জমিতে ফসল চাষ করা যাবে কি না। এছাড়া সার্বক্ষনিক এলাকাভিত্তিক কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।


  • 43
    Shares
শর্টলিংকঃ