সীতাকুণ্ডের পাহাড় চূড়ায় যা যা আছে

  • 2
    Shares

রূপক রায় চাঁদপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। তিনি আমাকে জানালেন, তার সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ব্রেইভ চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছে। সেখান থেকে সীতাকুণ্ডও যাবে। আমি যেন তাদের সাথে যাই। শুনেই হ্যাঁ বলে দিলাম। আমার ঘুরতে খুব ভালো লাগে। গল্পে সীতাকুণ্ডের নানা কাহিনি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে দেখা হয়নি। ভাবলাম, এবার ‘রথ দেখা ও কলা বেচা’ হবে।

যাওয়ার আগের দিনই আমি স্যারের বাসায় হাজির। রাতটা সেখানে কাটিয়ে ভোরের ট্রেনে চট্টগ্রাম যাবো। সেখান থেকে কাজ সেরে সীতাকুণ্ডে। স্যার মোবাইল অ্যাপসের কাজ করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি প্রদর্শন করবেন মোবাইল অ্যাপস। ‘গ্রাম হবে শহর’ এমন থিম নিয়েই তার কাজ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে অ্যাপ তৈরি করে দেওয়ার মত কাজ হাতে নিয়েছেন।

ভোর সাড়ে চারটা। চোখে প্রচণ্ড ঘুম। কিন্তু তাতে কি? আমার মন পড়ে আছে সীতাকুণ্ডে। আমাদের সফরসঙ্গী আরও দুজন। একজন জুয়েল ভাই, আরেক জন সাহীদ। সাহীদ অ্যাপসের কাজ ভালো বোঝে। জুয়েল ভাই ব্রেইভ নিয়ে কাজ করেন স্যারের সাথে। আমরা চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হলাম। এটাই আমার প্রথম বড় ট্রেন সফর। ট্রেনে যেতে যেতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে যেন ব্যস্ত ছিলাম।

রূপক স্যারের কাছে রুটটি বেশ পরিচিত। আমার আর জুয়েল ভাইয়ের রুটটি নিয়ে বেশ কৌতূহল ছিল। খোশ-গল্পে মেতে উঠলাম। আমাদের ছিল কেবিন। ট্রেনের মৃদু ঝাঁকুনিতে চোখে ঘুমঘুম ভাব চলে এলো। তবে ঘুমালাম না। ভাবলাম ঘুমকে ছুটিতে পাঠিয়ে জীবনটাকে উপভোগ করি। চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় চোখে পড়ল পাহাড়। স্যারের কাছে জানতে চাইলাম, এগুলো কিসের পাহাড়। স্যার জানালেন, এটিই সীতাকুণ্ড পাহাড়। তবে সীতাকুণ্ড রেল স্টেশনে আমাদের ট্রেন থামবে না। তাই চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে এখানে আসতে হবে। স্যার জানালেন, আজ রাতে আমরা এ পাহাড়ের চূড়ায় একটি মন্দিরে রাত কাটাবো।

দেখতে দেখতে চট্টগ্রাম পৌঁছে গেলাম। সেখানে ইনোভেশন শোকেসিংয়ে অংশ নেবো আমরাও। আমাদের প্রিয় হারুনুর রশিদ ভাইও সেখানে আছেন। তিনি চাঁদপুর ডিসি অফিসের একজন কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া শেষে সেদিনই আমরা যাবো সীতাকুণ্ড। সীতাকুণ্ড শংকর মঠের একজন মহারাজের সাথে রূপক স্যারের বেশ সখ্যতা। তার নামও রূপক। সেই মুহূর্তে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন। তিনি জানালেন, সীতাকুণ্ডে তিনি আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেবেন মন্দিরের গেস্ট হাউসে। আমরা ছুটলাম সীতাকুণ্ডের দিকে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল আমি আর রূপক স্যার পৌঁছাই সীতাকুণ্ডে। রূপক মহারাজ আমাদের থাকার জন্য রুম দেখিয়ে দেন।

মন্দিরেই খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। আমাদের সাথে আসা জুয়েল ভাই এবং সাহীদ ইনোভেশন প্রোগ্রামে থাকায় আসতে একটু দেরি হচ্ছে। আমরা দুজন ফ্রেশ হয়ে খাওয়ার জন্য মন্দিরের দিকে ছুটলাম। মন্দিরটি পাহাড়ের চূড়ায়। মনে হয়, তীর্থস্থানই যেন আসল ঠিকানা। খাবার খেয়ে আমরা আবার কক্ষে ফিরে এলাম। দেখলাম সেখানে একঝাঁক শিশু খাবার খাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানলাম, তারা অসহায় ও এতিম। এখানেই থাকে এবং খায়। মঠ কর্তৃপক্ষই ওদের দেখভাল করে।

এবার পাহাড়ের দৃশ্য দেখার পালা। কিছুক্ষণের মধ্যে জুয়েল ভাই এবং সাহীদ এসে হাজির। আমরা সবাই চন্দ্রনাথ মন্দিরের দিকে যাত্রা শুরু করলাম। সেখানে ঘুরে ঘুরে দেখলাম। যদিও চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠিনি। তবে রূপক স্যারের অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করলেন। আমি তো দূর থেকে এর সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত। এর ফাঁকে আমরা পাহাড়ি বেলও খেলাম। সেখানকার বেল বেশ সুস্বাদু।

দেখতে দেখতে আমাদের সময়ও ফুরিয়ে আসে। আমরা ফিরে আসি যার যার গন্তব্যে। কিন্তু মন পড়ে থাকে পাহাড়ে। পাহাড় চূড়ার মন্দিরে পড়ে থাকে আরাধনা। ক্ষণিকেই আমরা হয়ে উঠি কর্মব্যস্ত মানুষ।

কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাস-ট্রেনে সীতাকুণ্ড যাওয়া যায়। তবে ট্রেনে গেলে নামতে হবে ফেনী রেল জংশনে। ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, মহাখালী থেকে বাস ছেড়ে যায় সীতাকুণ্ডের উদ্দেশে। যানবাহনভেদে ভাড়া। তবে চারশ থেকে হাজার টাকার মধ্যেই যাওয়া যাবে। সীতাকুণ্ড পৌঁছে অটো কিংবা সিএনজিযোগে সীতাকুণ্ডর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন: সীতাকুণ্ডে থাকার মতো তেমন বড় মানের হোটেল না থাকলেও মাঝারি মানের বেশ কিছু হোটেল আছে। হোটেলে রাত কাটাতে পারবেন। ভাড়ার তারতম্যও বেশি নয়। হাতের নাগালের মধ্যেই রয়েছে এসবের ভাড়া।


  • 2
    Shares
শর্টলিংকঃ