সুখ নেই পদ্মা-গড়াই দম্পতির সংসারে

  • 121
    Shares

 

জিয়াউল গনি সেলিম :

রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় প্রথমবারের মতো ডিম দিয়েছিল ঘড়িয়াল দম্পতি পদ্মা ও গড়াই। কিন্তু বাচ্চা ওঠাতে ব্যর্থ হয় তারা।  তবে কর্তৃপক্ষ হাল ছাড়ে নি। বাচ্চা ফুটানোর জন্য ঘড়িয়াল দুটিকে রাখা হয়েছে পুকুরে। তবে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারায় সফলতা আসছে না।

আষাঢ়ের আকাশে দেখা নেই ঘন কালো মেঘের। নেই অঝোরধারার বৃষ্টিও। নীল আকাশের পুরোটাই দখলে নিয়েছে সাদা টুকরো টুকরো মেঘের দল। চোখ তুলে তাকালেই মনে হবে শরতের নীল আকাশের বুকে খেলা করছে শুভ্র মেঘবালিকারা। তবে সুর্য কিন্তু ঠিকই ছড়াচ্ছে উত্তাপ। কড়া রোদের নিচে যেন টেকাই মুশকিল। তাই চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদেরও মনে যেন প্রশান্তি নেই।

ঘোরাঘুরি বাদ দিয়ে গাছের নিচে বসে বসে খোশগল্পে মেতে উঠেছেন কেউ কেউ। তবে পরিবার নিয়ে যারা এসেছিলেন তারা কিন্তু ভীড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন পশু বা প্রাণির খাঁচার সামনে।

নওগাঁ থেকে আসা চিড়িয়াখানার দর্শনার্থী আবদুল হাকিম স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে খাঁচার বাইরে দেখে বার বার দেখার চেষ্টা করছিলেন ঘড়িয়াল। বললেন, এভাবে কি আর নদীর ঘড়িয়াল বাঁচে! বদ্ধ পুকুরের পানিতে জমেছে ময়লা ও আবর্জনার স্তুপ। ভরে গেছে প্লাস্টিকের বোতলে। দুর্গন্ধে চারপাশ অতিষ্ঠ করে তুলেছে মরে থাকা মাছ। পুকুরের তলানি গিয়ে ঠেকেছে পানি।কড়া রোদ গরম করে তুলেছে পুকুরের পানিও। এরই মধ্যে মাঝে মাঝে মাথা চাড়া দিয়ে উঠচে ঘড়িয়াল দুটি।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত এই চিড়িয়াখানায় আগে থেকেই ছিল দুটি মেয়ে ঘড়িয়াল। আর দুটি ছেলে ঘড়িয়াল ছিল ঢাকা চিড়িয়াখানার সংগ্রহে। ফলে প্রজননের কোনো উপায়ই ছিল না। তবে এই বন্ধ্যাত্ব কাটাতে ২০১৭ সালের আগস্টে সরকারের ‘ঘড়িয়াল কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যানের’আওতায় দুই চিড়িয়াখানার মধ্যে একটি করে ছেলে ও মেয়ে প্রজাতির বিনিময় হয়।

রাজশাহী চিড়িয়াখানার এই পুকুরেই সংসার পাতে পদ্মা-গড়াই দম্পতি। এর ২০ মাস পর ডিম দেয় পদ্মা। পদ্মার জন্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পুকুরের মাঝখানে বালুর ঢিবি তৈরি করলেও সেখানে ডিম পাড়ে নি। পানির নিচে ডিম পাড়ায় তাতে আর বাচ্চাও ফোটেনি। তবে আবার আসছে ঘড়িয়ালের ডিম দেয়ার। পুকুরটির পরিবেশ রক্ষায় এখনো কোনো উদ্যোগ নেয় নি কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ বার্ডস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও প্রখ্যাত পরযটক তারেক অণু ইউনিভার্সাল২৪নিউজকে বলেন, ‘চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নানাভাবে চেষ্টা করছে ঘড়িয়ালের প্রজননের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু এখনো তারা উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে নি। নদীতে যেমন ঘড়িয়াল সহজের বালুর সংস্পর্শ পায়। তারা রোদ পোহায়। চিড়িয়াখানায় এই পুকুরের মাঝখানে বালুর ঢিবি তৈরি করলেও সেটি উপযুক্ত হয় নি।

তিনি আরো জানান, নিরিবিল পরিবেশ সবেচে গুরুত্বপূর্ণ। পুকুরটি ঘিরে দর্শনার্থীরা থাকেন। ঘড়িয়াল পানি থেকে মাথা চাড়া দিলেই তারা হৈচৈ শুরু করেন। এতে প্রাণিরা বিরক্ত হয়। পদ্মা-গড়াই দম্পতির সংসারের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল  নিশ্চিত করতে পারলেই প্রজননে সাফল্য আসবে সহজে।

তবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক নানা সংকটের কথা অবশ্য স্বীকারও করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক প্রজননের জন্য তারা পুকুরটি পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলবেন শিগগিরই।

দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় ঘড়িয়াল আছে মাত্র ১১টি ঘড়িয়াল আছে। তবে বিভিন্ন নদীতে এই সংখ্যা ৫৮টি  ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


  • 121
    Shares
শর্টলিংকঃ